1. admin@spicynews24.com : admin :
  2. nfjsduwdwdyu@gmail.com : mk tr : mk tr
প্রবাসীদের প্রতি চাপ না বাড়িয়ে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয়ার এখনই সময় -
শিরোনাম
মোবাইলে থাকে সোনা, ফেলে দেওয়া পুরনো ফোন দিয়ে চলে কোটি টাকার কারবার সকল প্রবাসীদের জন্য দারুণ সুখবর দিলেন মন্ত্রী ইমরান আহমদ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, এই হিন্দু ভদ্রলোকটি সিলেট থেকে___ কলেজ ছাত্রকে তুলে এনে জোর করে বিয়ে করলো এক মেয়ে- ভিডিও মালয়েশিয়া থেকে পোড়া কপাল নিয়েই দেশে ফিরছেন তেরা মিয়া সিনেমার গল্পের মতোই রিয়াজ-তিনার প্রেমকাহিনী খুশি প্রবাসী বাংলাদেশীরাও, মালয়েশিয়ায় শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলছে গণপরিবহন! ভাই আমাকে বলবেন, ৫০ হাজার লোক নিয়ে আসবো: ডা. মুরাদ দুঃসংবাদ দেশবাসীর জন্য: ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার এবার বাংলাদেশ-ভারত ফ্লাইট বাড়িয়ে দ্বিগুণ হল

প্রবাসীদের প্রতি চাপ না বাড়িয়ে ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয়ার এখনই সময়

  • আপডেটঃ শনিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫ বার পঠিত

 

১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষ করে সৌদি আরব থেকে নাসির উদ্দিন ফিরেছেন খালি হাতে। কারণ এই ১৭ বছরের সব উপার্জিত অর্থ তিনি দ্বিধাহীন ভাবে প্রতিমাসে পরিবারের হাতেই তুলে দিয়েছিলেন। আজ যখন তিনি দেশে ফিরে আসলেন তখন স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে কেউ তাঁকে নিতে চাইছেন না। ৫২ বছর বয়সী নাসির উদ্দিনের ঠাঁই হয়েছে রাজধানীতে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সেফ হোমে।

কুমিল্লার মো. তাজুল ইসলাম (৩১) গত ১২ জুন স্ট্রোক করে প্রবাসের এক হাসপাতালে মা’রা যান। সুনামগঞ্জের প্রবাসী আনিছ আলী (৩৬) তেমন কোনো অসুস্থতার কথা জানা নেই তাঁর পরিবারের। দেশে ফিরেও কখনো চিকিৎসা নিতে দেখা যায়নি তাঁকে। তাঁর স্ত্রী শাপলা আক্তার বলেন, ‘২২ মে সকাল আটটায়ও কথা বলছি, দুপুর দুইটায় আর ফোন করে পাইনি।

পরে শুনেছি, স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মালয়েশিয়ায় ২০১৯ সালে ৭৮৪ বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। জরিপে দেখা যায় বেশিরভাগ প্রবাসী মা’রা গেছেন স্ট্রোক করে। প্রবাসে বাংলাদেশিদের মৃতের পরিসংখ্যানের তালিকায় প্রথমে আছে সৌদি আরব। দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছে মালয়েশিয়া এর পরে রয়েছে আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েত।

প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে এমন বেশ কয়েকটি সংগঠন জানায়, গত চার বছরে যত প্রবাসীর লাশ এসেছে, তাদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্তত ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যু হয়েছে আকস্মিকভাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে মানসিক চাপ-ই প্রবাসীদেরকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে দুই হাজার ৩১৫ জন, ২০১০ সালে দুই হাজার ২৯৯ জন, ২০১১ সালে দুই হাজার ২৩৫ জন, ২০১২ সালে দুই হাজার ৩৮৩ জন, ২০১৩ সালে দুই হাজার ৫৪২ জন, ২০১৪ সালে দুই হাজার ৮৭২ জন, ২০১৫ সালে দুই হাজার ৮৩১ জন, ২০১৬ সালে দুই হাজার ৯৮৫ জন, ২০১৭ সালে দুই হাজার ৯১৯ জন এবং ২০১৮ সালে তিন হাজার ৫৭ জনের মরদেহ দেশে ফিরেছে।

২০১৯ সালেও তিন হাজার ৬৫৮ জনের মৃ’তদেহ দেশে ফিরেছে। অর্থাৎ গত বছর গড়ে প্রতিদিন ১০ জনের বেশি প্রবাসী শ্রমিকের লা’শ দেশে ফিরে এসেছে। সরকারি হিসাবে গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যাওয়া ২৭ হাজার ৬৬২জন শ্রমিকের লা’শ দেশে ফেরত এসেছে। মৃ’ত ব্যক্তিদের স্বজন, প্রবাসী বাংলাদেশি ও অভিবাসন খাত-সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার কারণে নিয়মিত ঘুমানোর সুযোগ পান না শ্রমিকেরা। এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। দেশ থেকে যাবার সময় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা তুলে আনার তাগিদ এবং আত্মীয়-পরিজনহীন থাকার পরিবেশ, এসব কিছু মিলিয়ে তাদের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ অনেক বেশি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে ঋণের বোঝা আর পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে হরহামেশা মানসিক বিপর্যয় নিয়ে থাকতে হয় প্রবাসীদের। অতিরিক্ত মানসিক চিন্তার ফলে অকালে প্রাণ ঝড়ে যাওয়ার অসংখ্য ঘটনা আছে। অধিকাংশ পরিবারই তাকিয়ে থাকে বিদেশ থেকে কবে টাকা পাঠাবে। আর একের পর এক আবদার আসতেই থাকে। আজ এটা লাগবে কাল ওটা লাগবে। এটা নেই, ওটা নেই। এই নেই আর নেই শুনতে শুনতে এক প্রকার হতাশা গ্রস্থ হয়ে পড়ে প্রবাসীদের মন আর এ হতাশা থেকেই হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান অনেক প্রবাসী।

যেসব পরিবার প্রবাসীর আয়ের উপর সংসার চলে তাদের আর দুঃখের সীমা থাকে না। মৃত্যুর পরে অনেক পরিবারের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়। কেন তাকে বারবার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হল। কিন্তু তখন আর সময় থাকেনা। তাই প্রবাসী পরিবার পরিজনের উচিৎ প্রবাসীদেরকে মানসিক চাপের হাত থেকে রক্ষা করা। তাদের সব সময় খোঁজ খবর নেয়া। প্রবাসীদের এই সমস্যার কথা বিবেচনা করে প্রাণ মালয়েশিয়া প্রবাসের গল্প নামে ভিডিও ক্যাম্পেইন শুরু করছে যা ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। এই পর্যন্ত তিনটি ভিডিও ছাড়া হয়েছে যেগুলোর শিরোনাম- মেহেদির প্রবাস জীবন, টাকার মেশিন এবং বোধ।

প্রত্যেকটি ভিডিওতে প্রবাসীদের সমস্যা ও সাথে সাথে সমাধান বলে দেয়া হয়েছে। ভিডিও গুলোর কাহিনী ও পরিচালনায় রয়েছেন নির্মাতা জাফর ফিরোজ। প্রতিটি গল্পের গভীরতা এতই প্রখর যা হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। বোধ শিরোনামের ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে প্রবাসী ছেলেটির প্রতি তার পরিবার কোন চাপ প্রয়োগ করছেনা। বরং প্রবাসী ভাইটি যখন তার ছোট বোনকে জিজ্ঞেস করে তার জন্য বিদেশ থেকে কোন কিছু পাঠাবে কি না, তখন তার ছোট বোন নিষেধ করে বলে, যারা বিদেশে থাকে তারা অনেক কষ্ট করে টাকা ইনকাম করে, তাদের সেই কষ্টের টাকা নষ্ট করা অন্যায়।

এই বোধ তার বাবা জাগ্রত করে দিয়েছে। এই যে বোধ, এমন বোধ যদি প্রতিটা প্রবাসী পরিবারের মাঝে জাগ্রত হয় তাহলে প্রবাসের যে লাশের সারি তা সত্যিই কমে আসতো। প্রাণ মালয়েশিয়ার হেড অব মার্কেটিং সিরাযুস সালেহিন বলেন- আমরা বাংলাদেশীরা প্রবাসীদের নিয়ে অনেক গর্ব করি। কারণ প্রবাসীরা অবিশ্রান্ত দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছে। এই প্রবাসীদের নিয়েই মুলত আমাদের পথ চলা। আমরা সবসময় চেষ্টা করে এসেছি কিভাবে প্রবাসীদের কাছে দেশি পন্য পৌঁছে দেয়া যায়। পন্যে পৌঁছে দিতে গিয়ে আমরা প্রবাসীদের কাছ থেকে যে সত্যি গল্পের সাক্ষী হয়েছি তা খুবই বেদনা দায়ক।

যে কথা গুলো কম মানুষই জানতে পারে। বিষয়টি নিয়ে নির্মাতা জাফর ফিরোজ ভাইয়ের সাথে আলাপ করি এবং যার যার ফাইনাল আউটকাম ন্যানো ফিল্ম সিরিজ প্রবাসের গল্প। প্রাণ মালেয়শীয়া প্রবাসীদের কল্যাণে সবসময় অংগীকারবদ্ধ। আমাদের এই প্রচেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে। খুব দ্রুতই আমরা আরেকটি ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছি, সেটা হবে প্রবাসীদের বিনামূল্যে অনলাইন স্বাস্থ্য সেবা। আশা করি আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে এবং সবসময় সকল প্রবাসীরা আমাদের সাথে থাকবে। প্রবাসীরা ভালো থাকুক নিরাপদে থাকুক এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর পড়ুন
© 2021 | All rights reserved by Spicy News
Customized BY Spicy News