1. admin@spicynews24.com : admin :
  2. nfjsduwdwdyu@gmail.com : mk tr : mk tr
হেফাজতকে ঘায়েলে সরকারের ৫ কৌশল -

হেফাজতকে ঘায়েলে সরকারের ৫ কৌশল

  • আপডেটঃ বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭ বার পঠিত

২৬-২৭ মার্চের তাণ্ডবের পর হেফাজতের ব্যাপারে সাঁড়াশি অভিযানে যায়নি, ধুমধাম করে হেফাজতের নেতাদের গ্রেপ্তারও করেনি, কঠোর অবস্থানের নামে একটি অস্থির পরিবেশও তৈরি করেনি সরকার।

বরং হেফাজতকে ঘায়েল করার জন্য সরকার একটি পরিকল্পিত কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর এই কৌশলের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, সরাসরি হেফাজতের সাথে সংঘাতে না জড়িয়ে হেফাজতকে বিভক্ত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। হেফাজতকে দুর্বল করতে পারলেই এই অপশক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে সরকারের একাধিক সূত্র মনে করছেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের সদ্যসমাপ্ত অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে হেফাজতের সমালোচনা করেছেন।

এর মাধ্যমে সরকারের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে গেছে। সরকার এখন আর হেফাজতের সাথে কোন রকম সমঝোতা বা আপোষে যাবে না। বরং বিভিন্ন কৌশলে হেফাজতকে দুর্বল করবে এটি হলো সরকারের লক্ষ্য। হেফাজতকে ঘায়েলে সরকার যে পাঁচটি কৌশল নিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন তার মধ্যে রয়েছে,

১. বিভক্তি এবং ভাঙন: বিভক্তি এবং ভাঙন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রয়াত আল্লামা শফীর পুত্র ইতিমধ্যে হেফাজতকে আলাদা হেফাজত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং সেই লক্ষ্যে তিনি কাজও শুরু করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে যে, রমজানের মধ্যেই নতুন হেফাজত আবির্ভূত হবে। আল্লামা শফীর পুত্রের নেতৃত্বে যে হেফাজত হবে সেই হেফাজত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২. মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক: হেফাজতের মূল শক্তি হলো মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। বিপুল সংখ্যক দীন দরিদ্র শিক্ষার্থী যারা তাদের শিক্ষকদের কথাই শিরোধার্য মানেন। শিক্ষকদের কথায় জীবন দিয়ে দিতে পারেন। তাদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং শুরু করেছে সরকার। ইতিমধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে সরকারের বিভিন্ন মহল বুঝাতে সক্ষম হচ্ছে যে তাদেরকে ব্যবহার করে এক বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন তথাকথিত হেফাজতের নেতারা এবং এর সর্বশেষ উদাহরণ মামুনুল হক। যখন এত কর্মী মামলার মুখে জেলে গেছে, কোনো কোনো কর্মী মৃ’ত্যুবরণ করেছে, সেই সময় মামুনুলের প্রমোদবিহারটি সরকারের কাছে তুরুপের তাস হিসেবে এসেছে। সরকার এটিকে কাজে লাগিয়ে হেফাজতের মূল শক্তি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে প্রকৃত অবস্থা বোঝানোর ক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হয়েছে বলে জানা গেছে।

৩. পুরনো মামলা: হেফাজতের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা তাণ্ডবের যে মামলা হয়েছে সেই পুরনো মামলাটিকে আবার নতুন করে সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা প্রকোপের কারণে এখন লকডাউন। লকডাউনের পর পরই মামলাগুলোর কার্যক্রম নতুন করে শুরু হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৪. নতুন মামলা: ইতিমধ্যেই বায়তুল মোকাররমে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে মামুনুল হকসহ কয়েকজন হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধ শতাধিক মামলা হয়েছে ২৬ এবং ২৭ মার্চের তাণ্ডব নিয়ে। এই মামলাগুলোর তদন্তে হুকুমদাতা এবং মদদদাতাদের নামও বেরিয়ে আসবে বলে সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এই মামলাগুলো হেফাজতকে চাপে ফেলবে এই নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

৫. আর্থিক ও নৈতিক অপকর্ম ফাঁস: হেফাজত সবচেয়ে দুর্বল হয়ে গেছে সাম্প্রতিক সময়ে মামুনুল হকের ঘটনায়। তিনি বৈধ বা অবৈধ যে স্ত্রী নিয়েই রয়েল রিসোর্টে যান না কেন, এই ঘটনাটি হেফাজতের মধ্যেও এক ধরনের তোলপাড় তৈরি করেছে। আর এখানেই সরকার দেখছে আশার আলো। সরকার মনে করছে যে হেফাজতের বিভিন্ন নেতার যে আর্থিক এবং নৈতিক অপকর্ম সেগুলো যদি জনসমক্ষে আসে তাহলে হেফাজত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের যে আবেগ এবং সহানুভূতি সেটা কমে যাবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট হেফাজতের কয়েকজন নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছেন এবং বিভিন্ন নেতাদের আর্থিক এবং নৈতিকস্খলনজনিত বিষয়গুলো তদন্ত চলছে। এখানে যদি তার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে তাহলে তা হেফাজতের জন্য হবে মা’রাত্মক ক্ষতিকর। আর এই ৫ কৌশলেই সরকার হেফাজতকে ঘায়েল করতে পারবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর পড়ুন
© 2021 | All rights reserved by Spicy News
Customized BY Spicy News