1. admin@spicynews24.com : admin :
  2. nfjsduwdwdyu@gmail.com : mk tr : mk tr
যেন এক নির্মম! উদাসীন ও নিষ্ঠুরতা, ৭ বছর শিকলবন্দী ময়না -

যেন এক নির্মম! উদাসীন ও নিষ্ঠুরতা, ৭ বছর শিকলবন্দী ময়না

  • আপডেটঃ শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৫ বার পঠিত

 

বছরের পর বছর কষ্টের সীমা পেরিয়ে গেলেও, শত চিৎকার করে মুক্তি মিলছে না। যেন এক নির্মম! উদাসীন, নিষ্ঠুরতা। আসলে কেন? কোন কিছুই বোধ হয় খাটে না। এটা যেন বাবা, মা, ছেলে মেয়েসহ চারপাশের সবারই গা সওয়া ব্যাপার হয়ে গেছে। বাঁশের খুটির শিকলটি পায়ের সঙ্গে লাগিয়ে এটাই তার নিত্য সঙ্গী।

সেখানেই কাঁটাতে হয় দিন-রাত থাকতে হচ্ছে বছরের পর বছর। দুর্বিষহ জীবনের বেদনার ছাপ। সেসব দুঃখ বেদনার কথাও প্রকাশের শক্তি হারিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর মধ্যপাড়া আব্দুল হালিম (৬৫) এই বৃদ্ধের ৭ বছর ধরে শিকল বন্দী পাগলি মেয়ে ময়না বেগম (৪০)।

অভাবে ও অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫জন। বৃদ্ধ বয়সে আব্দুল হালিম ভ্যান চালিয়ে এই অস্বচ্ছল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। এখনও পাইনি সরকারি কোন সহায়তা। তাদের অভিযোগ টাকা দিতে না পারায় পাইনি কোন সরকারি ভাতার কার্ড। একবেলা খেয়ে একবেলা না খেয়ে কাটাতে হচ্ছে দিন।

সরেজমিনে জানাযায়, গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর মধ্যপাড়া আব্দুল হালিমের মেয়ে ময়না (৪০) এর সঙ্গে একই ইউনিয়নের রামেশ্বপুর এলাকায় সামায়ন হোসেনের ছেলে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। সুখি সংসারে জন্ম নেয় ছেলে মুন্নাফ (৯) এরপর হঠাৎ ময়নার মাথা ব্যাথা শুরু হয়। কিন্তু স্বামী আমিনুল ইসলাম চিকিৎসা না করায় বাবার বাড়ীতে এসে চিকিৎসা করে ভালো হয় ময়না। সুখের সংসার করার জন্য আবার স্বামীর বাড়ীতে ফিরে যায়।

বিছুদিন যেতেই আবার শুরু হয় পাগলামী এরই মধ্যে জন্ম নেয় একটি মেয়ে সন্তান নাম সুন্দরী। এমতবস্থায় মাথার সমস্যা বেশি হয়, এ কারণে স্বামী আমিনুল ইসলাম তাকে তালাক দেয়। ২ মাসের শিশু সুন্দরীসহ বৃদ্ধ বাবার বাড়ীতে আসে ময়না। বৃদ্ধ বাবা কিছুদিন চিকিৎসা করালেও টাকার অভাবে ময়নার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ময়না পুরো পাগলি হয়ে যায়। তখন শরীরে আর কোন কাপড় না রেখে রাস্তা ও এলকার মাঝে ঘুরতে থাকে।

এমন অবস্থায় বাবা আব্দুল হালিম ও মা ছয়েদা বেগম কোন উপায় না পেয়ে বাড়ীতে এনে পায়ে শিকল বেঁধে রাখে। আর এই শিকল বাঁধা অবস্থায় পেঁরিয়ে গেছে ৭টি বছর। মেয়ে সুন্দরীর বয়স এখন সাত বছর। সুন্দরীর তেমন জ্ঞান, বুদ্ধি নেই। মাথার সমস্যা দেখা দিয়েছে। অর্থের অভাবে হয়তো আবার সুন্দরীকে শিকল বন্দি জীবন কাঁটাতে হতে পারে। কথা হয় ময়নার মা ছয়েদা বেগমের সঙ্গে তিনি জানান, ময়না এখন সম্পূর্ণ পাগলি শরীরে কোন কাপড় রাখেনা।

মেয়ে মানুষ এমন অবস্থায় বাহিরে ঘুরতে দেওয়া যায় না, তাই পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি ৭ বছর হয়েছে। এই ৭ বছর ধরে একজায়গায় খাওয়া ও প্রসাব-পায়খানা করে। আমি বৃদ্ধা কোমড় সোজা করতে পারিনা, তবুও কষ্ট করে এগুলো পরিষ্কার করি। সে আমর মেয়ে, তাকে মেরে ফেলতো পারবোনা। ময়নার বাবা আব্দুল হালিম জানান, আমার মেয়ে ময়না আজ পাগলি হয়েছে। ময়নার মেয়ে (আমার নাতনী) সুন্দরীরও এখন একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

মাঝে মাঝে নাতনী সুন্দরী হারিয়ে যায়। তাকে দ্রুত চিকিৎসা না করলে একদিন সুন্দরীও পাগলি হয়ে যাবে। এই বৃদ্ধ বয়সে ভ্যান চালিয়ে চালাতে হয় ৫ জনের সংসার। তাকে চিকিৎসা করাবো এই টাকা পাবো কোথায়। বার বার মেম্বরকে একটি সরকারি ভাতার কার্ড করার জন্য বলা হলেও আজও পাইনি। গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বর হামিদুর রহমান সরকার জানান, পনেরদিন হয়েছে সরকারি ভাতার কার্ডের জন্য আমার কাছে এসেছিল।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছি এখনো হাতে পায়নি। তবে পাগলি ময়নার মেয়ে সুন্দরীকে মাঝে মাঝে শিকলে বেঁধে রাখে। গাড়ীদহ মডেল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন বলেন, আমার কাছে ময়নার বাবা ও মা কেউ এ সরকারি ভাতার জন্য আসেনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ময়নুল ইসলাম জানান, আমি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম, অতিদ্রুত তাকে সরকারি ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এবং সরেজমিনে দেখতে যাবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর পড়ুন
© 2021 | All rights reserved by Spicy News
Customized BY Spicy News