1. admin@spicynews24.com : admin :
  2. nfjsduwdwdyu@gmail.com : mk tr : mk tr
নির্বাচনকে ঘিরেই পরিকল্পনা প্রধান দুই দলের -
শিরোনাম

নির্বাচনকে ঘিরেই পরিকল্পনা প্রধান দুই দলের

  • আপডেটঃ মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩ বার পঠিত

 

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এখন মুখোমুখি অবস্থানে। প্রতিদিন কথার যুদ্ধ চলছে এই দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে। কিন্তু কথার যুদ্ধ চললেও রাজপথে উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী নির্বাচনকে ঘিরেই তারা তাদের মূল পরিকল্পনা ফাঁদছে।

আর এতে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা বিএনপির পরিকল্পনা পরস্পর বিপরীতমুখী। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা শুরু করবে এখন থেকেই। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে আগামী নির্বাচনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

এই পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে, প্রত্যেকটি জেলায় জেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গুলোকে নতুন করে সাজানো, দলের অন্তঃকলহ বন্ধ করা, যে সমস্ত এলাকায় এমপিদের অবস্থান ভালো না তাদেরকে সদর বার্তা দেওয়া এবং তারা যেন এলাকায় কাজ করে সে ব্যাপারে তাদেরকে নজরদারির মধ্যে রাখা। একই সাথে আওয়ামী লীগ সারা দেশব্যাপী নির্বাচনী জরিপ শুরু করেছে।

প্রতিবারই আওয়ামী লীগ তার সরকারের মেয়াদের প্রায় অর্ধেক সময় পর থেকেই দেশব্যাপী নির্বাচনী অবস্থার উপর জরিপ করতে থাকে এবং অন্তত ৬টি জরিপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার চেষ্টা করে। আর এটি করার মাধ্যমে নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ এখন সেই পথেই এগোচ্ছে। নির্বাচনকে মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ এখন বিএনপির কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করছে।

বিশেষ করে বিএনপি যে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার সময় যে সমস্ত কর্মকাণ্ড গুলো করেছে তা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা এখন সমালোচনায় মুখর। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ তার দলীয় কর্মকাণ্ড সবকিছুই এখন নির্বাচনকেন্দ্রিক করছে। আগামী বছরের শুরু নাগাদ আওয়ামী লীগের পুরো রাজনীতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বিএনপি নির্বাচনকে মাথায় রেখে কাজ করছে তবে ভিন্ন। বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে যাওয়াটা ছিল বিএনপির ভুল। বিশেষ করে কোনো রকম দাবি আদায়ে ছাড়াই ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা বিএনপির জন্য ঠিক হয়নি।

আর এইজন্যই এবারের নির্বাচনে বিএনপি বর্জনের হাঁটতে চায়। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার পরও নির্বাচন হয়েছিল এবং ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় পাঁচ বছর পূর্ণ মেয়াদে নির্বিঘ্নে দেশ চালিয়েছে। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা ভিন্ন বলে বিএনপির একাধিক নেতারা মনে করছেন। তারা মনে করছেন যে, এবার যদি সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য নির্বাচন করা কঠিন হবে। ২০১৪ সালের পরিস্থিতি এবার নাই। আর এ কারণেই বিএনপি এখন দুটি বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে। প্রথমত, সাংগঠনিক পুনর্গঠন। বিভিন্ন জেলা উপজেলার সাংগঠনিক কমিটি গুলোকে বিএনপি ঢেলে সাজাতে চাচ্ছে।

বিশেষ করে, যে সমস্ত কমিটিগুলো অকার্যকর সেই কমিটিগুলোকে নতুন করে করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগরের দুটি কমিটি হয়েছে। ঢাকাকে কেন্দ্র করে যেন আন্দোলন করা যায় সে ব্যাপারে বিএনপি মনোযোগী। পাশাপাশি বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন নয় এরকম একটি অবস্থানে আবার ফেরত যেতে পারে। একই সাথে সামনে যে নতুন নির্বাচন কমিশন হবে সেই নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিএনপি একটি আল্টিমেটাম দিবে। ইতিমধ্যে বিএনপি নির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচন বর্জন করেছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, বিএনপি এরকম একটি অবস্থানের গেছে যেখানে তারা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয় এরকম একটি অবস্থানে যাবে। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, আমাদের এখন যে সংসদে ৬টি আসন রয়েছে। ৬টি আসন থাকা আর না আসন থাকা একই ব্যাপার। তাই আগামী নির্বাচনে কোন প্রলোভনে পা দেবে না বিএনপি। এরকম একটি অবস্থানে বিএনপি দৃঢ় হতে চায় এবং এইরকম একটি পয়েন্ট অব নো রিটার্ন থেকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড়াতে চায়। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী দু`বছরের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং কৌশলের খেলা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং তাতে কে জিতবে সেটাই দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর পড়ুন
© 2021 | All rights reserved by Spicy News
Customized BY Spicy News