1. admin@spicynews24.com : admin :
  2. nfjsduwdwdyu@gmail.com : mk tr : mk tr
পবিত্র কাবার দেশ সৌদি আরবে বাবার থাবা -

পবিত্র কাবার দেশ সৌদি আরবে বাবার থাবা

  • আপডেটঃ রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২২ বার পঠিত

 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আছেন কাবার দেশ সৌদি আরাবিয়ায়। কষ্ট আর শ্রমের বিনিময়ে অর্থ রোজগার পাঠাচ্ছেন দেশে। কষ্টের মধ্যেও কম পরিশ্রমে যদি অনেক রোজগার হয়? এমন লোভতো সবারই হবে। এই লোভকেই পুঁজি করে সৌদি প্রবাসীদের টার্গেট করে চলছে ইয়াবা ব্যবসা।

দেশে যেমন সৌদির খেজুর পাই আমরা অহরহ। ইয়াবাকে বাংলাদেশী মাদক হিসেবে তারচেয়ে বেশি পরিচিত করিয়ে ফেলেছে কারবারিরা। লোভে পড়ে অন্ধকার এপথে পা দিচ্ছেন প্রবাসীরা। শুধু তা-ই নয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দেয়া নানা কৌশলে মাদক নিয়ে যাচ্ছেন সৌদি। কিছু টাকার জন্য নিজেরে জীবনকে ঠেলে দিচ্ছেন মৃত্যুর মুখে। ধরাও পড়ছেন বাহক হিসেবে।

আড়ালেই থেকে যায় মূল ব্যবসায়ীরা। গত জুলাইয়ের খবর, ৯ হাজার ইয়াবা সৌদিতে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে এক যাত্রী । ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৯ হাজার ইয়াবা বড়িসহ এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের দাম্মামে ইয়াবাগুলো পাচার করতে চেয়েছিলেন বলে জানায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাদ্দামকে আটক করা হয়। তাঁর লাগেজে ৮ হাজার ৯৫০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়। পরে তা জব্দ করে তাঁকে আটক করা হয়।

জিয়াউল হক জানান, সাদ্দামের লাগেজের ভেতরে বিশেষ কায়দায় ইয়াবা বড়িগুলো লুকানো ছিল। সাদ্দাম প্রথমে অস্বীকার করেন। কিন্তু পরে তল্লাশিতে ইয়াবা ধরা পড়ে।জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, কুমিল্লার এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করেন। সৌদি আরবের দাম্মামের এক ব্যক্তির কাছে ইয়াবাগুলো তাঁর পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। এমন আরো একটি খবর, সৌদি পাচারের সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে এককোটি টাকার ইয়াবা জব্দ।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রফতানি কার্গো নিরাপত্তা স্ক্রিনিং-এর সময় ৩৮ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শুল্ক বিভাগ, প্রিভেনটিভ টিম ও সিভিল এভিয়েশনের একটি যৌথ দল গার্মেন্টস পণ্যের সঙ্গে সৌদি আরবে পাচারের সময় এই ইয়াবা জব্দ করেন।

জব্দ ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি ১৬ লাখ টাকা।শুল্ক বিভাগের ডিপুটি কমিশনার (প্রিভেনটিভ) মোহাম্মদ মারুফুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যৌথ দলটি সৌদিগামী রেডিমেড গার্মেন্টসের ৩৪৯ কার্টন তৈরি পোশাকের চালানের তিনটি কার্টন থেকে ইয়াবাগুলো জব্দ করে। এর সাথে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।

আরেক খবর, ফেনীতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সৌদি আরবে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার দায়ে আবদুল মান্নান (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আড়াই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এরকম শতশত ঘটনা। যেগুলো ধরা পড়ে সেগুলাই হিসেবে আসে। আর যেগুলো পৌঁছে যায় সৌদিতে তার কোনো হিসেবই নেই। আসুন আরেকটু চমকে যাওয়ার মতো খবর শুনাই। সেটি হলো , রিয়াদে ইয়াবাসহ বিমানের ২ কেবিন ক্রু আটক। ইয়াবা বড়িসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কেবিন ক্রু আরিফ পাঠান রুহিদ ও ফেরদৌস আল মামুনকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে সৌদি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রিয়াদের ‘রেডিসন ব্লু’ হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এরপর থেকে তারা রিয়াদ পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত মঙ্গলবার ভোরে যাত্রী নিয়ে রিয়াদের উদ্দেশ্যে বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়। ওই ফ্লাইটের স্টাফদের মধ্যে কেবিন ক্রু আরিফ পাঠান রুহিদ ও ফেরদৌস আল মামুন ছিলেন। রিয়াদের বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিশ্রাম নেওয়ার জন্য তারা হোটেল ‘রেডিসন ব্লু’তে যান। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিয়াদের পুলিশ ওই হোটেলে অভিযান চালায়। এসময় হোটেলের একটি কক্ষে থাকা ওই দুই কেবিন ক্রুকে চ্যালেঞ্জ করে পুলিশ। তাদের হেফাজত থেকে বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার জব্দ করা হয়। এই হলো অবস্থা। প্রশ্ন হলো তাহলেতো সবই শেষ। ইয়াবায় শুধু সৌদি কেনো? লাল হয়ে যাচ্ছে গোটা বিশ্ব।

যেখানে যেখানে বাঙ্গাল আছে। একটা ইতিবাচক খবর শুনাই এবার। দৈনিক প্রথম আলোর খবর, সৌদি আরবে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, এক বছর পর আসামি গ্রেপ্তার। প্রায় এক বছর পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইয়াবা পাচার–চেষ্টার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আসামির নাম মো. আসাদুল্লাহ। তিনি একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত নয়টার কিছুক্ষণ আগে মো. আসাদুল্লাহকে দক্ষিণখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় এক বছর ধরে তিনি কখনো তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহে, আবার কখনো ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছিলেন।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর মেসার্স সিয়াম অ্যান্ড সোনি নামের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির পাঠানো সোয়েটারের কার্টনে তিনি ৩৮ হাজার ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করেছিলেন। ওই প্রান্তে কার্টনগুলোর প্রাপক ছিলেন সৌদি আরবের রিয়াদের আবদুল আজিজ আল মোশাররফ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা কারবারের সঙ্গে শুধু বিমান নয়, যুক্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ওসি প্রদীপের মতো অনেকে। নয় মিয়ানমারের সাথে ইয়াবা আনা নেয়ার মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার সীমানা পাহাড়া দেয়া কি খুবই কঠিন? এখনই প্রতিরোধ না হলে সামনের পরিস্থিতি হবে আরো ভয়াবহ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর পড়ুন
© 2021 | All rights reserved by Spicy News
Customized BY Spicy News