1. admin@spicynews24.com : admin :
  2. nfjsduwdwdyu@gmail.com : mk tr : mk tr
ওমানে ঝড়ে খেজুর গাছ আঁকড়ে প্রাণে বাঁচেন বাংলাদেশি মন্টু -

ওমানে ঝড়ে খেজুর গাছ আঁকড়ে প্রাণে বাঁচেন বাংলাদেশি মন্টু

  • আপডেটঃ সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৫৩ বার পঠিত

 

ত্রাণের প্যাকেট হাতে দাঁ’ড়িয়ে মন্টু। বাবা-মায়ের সঙ্গে ওমানে তার বেড়ে ওঠা। মন্টুর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আ’ঘা’তের চি’হ্ন। বাগানের ভেতরে ছোট্ট একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো সে। রাত যখন গভীর তখন প্রচ’ণ্ড বাতাস আর অনব’রত বৃষ্টি শুরু হয়। উপড়ে যায় তাদের থাকার ঘরটি। চারদিকে তখন পানি আর পানি।

ঘর থেকে বের হয়ে দীর্ঘক্ষণ একটি খে’জুর গাছ আঁ’কড়ে ধরে প্রা’ণে বাঁ’চে ছেলেটি। তার বাবাও ব্যস্ত ছিলেন পরিবারের অন্যদের বাঁ’চাতে। ঝ’ড়-তু’ফানে বাবার সব হা’রিয়ে গেছে। এখন কোনো রকমে বেঁচে আছে তারা। কেউ সহযোগিতাও করতে আসেনি তাদের। শুনেছেন বাংলাদেশিদের ত্রা’ণ দেওয়া হচ্ছে।

তাই এখানে ছুটে এসেছে সে।ঝড়-তু’ফানের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার এমনই কাহিনি শো’নাচ্ছিলেন বারো বছর বয়সী মন্টু। মন্টুর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁদপুরে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ওমানে থাকতো সে। গত রোববার ঘূ’র্ণিঝ’ড় শাহিনের আ’ঘা’তে বাড়িঘর হারিয়ে পথে বসেছে তার পরিবার।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে ওমানের ওই সব এলাকায় গিয়ে এমনি চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। বিদিয়া বাজারের পে’ট্রলপা’ম্প এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছে ওমানস্থ ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব’। ত্রাণের গাড়ি দেখে মুহূর্তে মানুষের জ’টলা। ত্রাণ সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁ’ড়ায় মন্টুও।

শুধু ছোট্ট মন্টুই নয়, আরও হাজার হাজার প্রবাসী নিজের ঘর থেকে কোনো রকমে বের হয়ে নি’রা’পদ আশ্রয় খুঁ’জে নিতে দিগ্বিদিক ছুটেছেন। এ যাত্রায় অনেকে পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। এখনও অনেক প্রবাসীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মিডিয়ায় খবর এসেছে এখন পর্যন্ত তিন বাংলাদেশির ম’রদে’হ উ’দ্ধার করা হয়েছে।সোশ্যাল ক্লাবের হয়ে ত্রাণ দিতে আসা বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা সৈয়দ মনজুর আলম বলেন, এখানে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না।

প্রবাসীরা সামান্য ত্রাণের আশায় অ’সহা’য়ের মতো চেয়ে আছেন। বহু বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সব হা’রিয়ে এখন পথের ভিখারি। মানুষ ত্রাণ সহযোগিতা পাওয়ার জন্য মু’খিয়ে আছেন। ওমানের বিভিন্ন সং’স্থা তার ব্যক্তি উদ্যোগের ত্রাণগুলো তাদের দেশের নাগরিকদের বণ্টন করছে বলে জানান তিনি।বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের সাধারণ সম্পাদক এম এন আমিন বলেন, এখানে এসে যা দেখতে পাচ্ছি তা খুবই ভ’য়াব’হ। জানি না এই ক্ষ’তি কীভাবে কা’টিয়ে উঠবে এখানকার মানুষ।

আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্র’তুল বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমি ওমানে প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার অনু’রোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দূতাবাসকে অ’নুরোধ জানাবো, তারা যেন আরও বেশি করে খাদ্যসামগ্রীসহ নানাভাবে ক্ষ’তিগ্র’স্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁ’ড়ান।জানা গেছে, ঘূ’র্ণিঝ’ড় আঘা’ত হানার পরের দিন ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি টিম পরিদর্শনে আসেন।

তারা অল্প সংখ্যক মানুষকে ত্রাণসামগ্রী দেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। গত রোববার (৩ অক্টোবর) ঘণ্টায় বাতাসের সর্বো’চ্চ ১৫০ কিলোমিটার বে’গ নিয়ে ওমানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে আ’ঘা’ত হানে ঘূ’র্ণিঝড়’ শাহীন। এর সঙ্গে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতে দেশটির ওই অঞ্চলের বিশাল এলাকা পানিতে ত’লিয়ে যায়। পাশাপাশি এটি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিসতান-বালুচিস্তানের উপকূলে আঘা’ত করে। এতে এখন পর্যন্ত ওমান ও ইরানের মোট ১৩ জন মা’রা যাওয়ার খবর দিয়েছে বিবিসি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরও খবর পড়ুন
© 2021 | All rights reserved by Spicy News
Customized BY Spicy News