Sun. Dec 5th, 2021

 

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে থেকে পুঁজি করে ঢাকা শহরকে অচল করে দেয়া এবং যে যেখানে আছে রাজপথে অবস্থান নেয়ার এক নীল নকশা গ্রহণ করেছে বিএনপি-জামায়াত। প্রকাশ্য কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি আর জামাত নেপথ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

বেগম খালেদা জিয়ার কোন কিছু হলে যেন তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকাকে সারাদেশের সাথে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া যায় এবং ঢাকার সব প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থান নেয়া যায় সেই একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার দাবিতে বিএনপির ধাপে ধাপে আন্দোলন করছে। গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ যুব বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এই কর্মসূচি গুলোর মধ্য দিয়ে দলকে সংগঠিত করতে চাইছে বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ। তারা মনে করছে যে এভাবে কর্মসূচি করতে করতেই তারা একটা পর্যায়ে চূড়ান্ত আঘাত হানতে পারে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক কোন ঐক্য নেই, বিশ দলও এখন একরকম নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও বিএনপি এবং জামায়াতের একাধিক যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এখন জামায়াত নেতারা বিএনপি`র অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, সংহতি জানাচ্ছেন এমনকি নিজেরা খালেদা জিয়ার ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সংঘটিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে থাকার কারণে দলের নেতাকর্মীরা আস্তে আস্তে সংঘটিত হচ্ছে এবং মাঠে নামছে বলে বিএনপি নেতৃবৃন্দরা আশাবাদী হয়েছেন।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে তারা আশঙ্কা করছেন বেগম খালেদা জিয়া চূড়ান্ত পরিণতির দিকেই যাচ্ছেন, অলৌকিক কিছু না ঘটলে তিনি হয়তো বেশি দিন বাঁচবেন না। আজ বেগম খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয় তাহলে কাল বিলম্ব না করে সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপি`র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে বিএনপি`র তিন স্তরের আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে।

প্রথমত, বেগম খালেদা জিয়ার কোন কিছু হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসবে এবং সমস্ত রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ করে দিবে, ঢাকাকে অচল করে দিবে। দ্বিতীয়ত, তারা ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবে। এজন্য তারা যাত্রাবাড়ী, গাবতলি এ ধরনের ঢাকার প্রবেশমুখের এলাকাগুলোতে অবস্থান করবে যেন কোনো কিছু না ঢুকতে পারে। আর এই সময়ে জামাত সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব নাশকতা ইত্যাদি করতে পারে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র বিএনপির এই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছে এবং তারাও এ ব্যাপারে যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে, ঢাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে এবং আবাসিক হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার এবং মেসে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যেন বাইরের লোকেরা ঢাকায় না আসতে পারে। তবে জামায়াত যে সহিংসতার পরিকল্পনা নিয়েছে এই সহিংসতার পরিণতি অত্যন্ত খারাপ হবে বলে সরকারের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যথেষ্ট প্রস্তুত বলেই জানা গেছে।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, বিএনপি যত গর্জে তত বর্ষে না। অতিতেও আমরা দেখেছি বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যুতে অনেক বড় ধরণের আন্দোলনের হুমকি ধামকি দিয়েছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কিছুই করতে পারে নি। এখনও বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে বিএনপি খুব একটা কিছু করতে পারে এমন আশা নেই। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার পরিণতির কথা চিন্তা না করে তিনি যেন সুস্থ হয়ে উঠেন এটাই সকলে প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *