Sun. Dec 5th, 2021

 

দুই ছেলে পাকা ঘরে বসবাস করলেও মায়ের আশ্রয় হয়েছে নিজ বাড়ির উঠানের এক কোনে ঝুঁপড়ি ঘরে। সেই ঘরে নেই কোন আলোর ব্যবস্থা। শীতে কাঁপছে মা। মায়ের গায়ে গরম কাপড়ও দেয়নি ছেলেরা।

ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামে। জানা যায়, নাটোরের গুরুদাসপুরে ১০৭ বছর বয়সী রাখি বেগম। চোখে ঝাপসা দেখেন। স্বামী রিকাত মন্ডল অনেক আগেই মারা গেছেন। দুই সন্তান থাকলেও খবর রাখেনা কেউ। অযত্ন অবহেলায় মৃতুর অপেক্ষায় এখন রাখি বেগম।

স্থানীয়রা জানান, স্বামী মৃত-রিকাত মন্ডল ও রাখি বেগম এক সময় জীবনের সবটুকু শ্রম দিয়েছেন পরিবারের জন্য। রাখি বেগমের দুই ছেলে। বড় ছেলে আনছার মন্ডল ও ছোট ছেলে ছামছু মন্ডল। অনেক কষ্ট করে দুই সন্তানকে বড় করেছিলেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তায় কঠোর পরিশ্রম করে গড়েছিলেন চাষাবাদ করার জন্য কিছু জমি ও বসত ভিটা। অথচ সেই সন্তানরাই এখন তাদের মাকে অযন্ত অবহেলায় ফেলে রেখেছে একটি পাটখড়ি’র ঝুঁপড়ি ঘরে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাখি বেগমের দুই ছেলে আনছার মন্ডল ও ছামছু মন্ডল নিজ বাড়িতে দালান কোঠায় থাকেন। আর রাখি বেগম পাঁচ হাতের মধ্যে পাটকাঠি দিয়ে তৈরি একটি ঝুঁপড়ি ঘরে থাকেন। সেখানে একটি থালা, একটি কলসি, একটি গ্লাস ও ভেজা মাটিতে বিছানা রয়েছে। খাওয়া দাওয়া সব কিছু ওই জায়গার মধ্যেই করতে হয় রাখি বেগমকে। দেখার জন্য কেউ নেই। রাখি বেগমের বড় ছেলে আনছার মন্ডল জানান, আমার মা অসুস্থ্য। ভালভাবে চলাফেরা করতে পারে না।

তিনি বিছানায় প্রসাব করে দেয়। অনেক বয়স হয়ে গেছে। তাই ঝুঁপড়ি ঘরে রাখা হয়েছে। ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি অমানবিক। তিনি ছেলেদের ডেকে মাকে দেখভালের জন্য বলবেন। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন জানান, খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *