Sun. Dec 5th, 2021

 

সাগর পথে টিউনিশিয়ার জারজিস শহর থেকে লাম্পেডুসায় পৌঁছাতে এখন অবধি সাতবার চেষ্টা করেছেন আলী৷ তবে, একবারও ২৬০ কিলোমিটার লম্বা বিপদসঙ্কুল এই পথ নৌকায় পাড়ি দিতে সক্ষম হননি তিনি৷ এরই মধ্যে এমন চেষ্টায় সমুদ্র হারিয়ে গেছেন তার বড় ভাই৷ তবুও ইউরোপে প্রবেশের আশা ছাড়তে রাজি নন আলী৷

চলুন তার নিজের মুখ থেকেই শোনা যাক বাকিটা৷ ‘‘আমি জারজিসের সৈকত থেকে ইটালিতে পৌঁছাতে সাতবার ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছি৷ প্রতিবারই কোনো না কোনো সমস্যা হয়েছে৷ কখনো উপকূলরক্ষীরা আমাকে আটক করেছেন, কখনো নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়েছে৷ আমার ভাগ্য সহায় ছিল না৷

প্রথম চেষ্টাটা করেছিলাম ২০১১ সালে, আর সর্বশেষ গত আগস্টে৷ গ্রীষ্মে আমিসহ আরো ১৪ জনকে লিবিয়ার সীমান্তরক্ষীরা সাগরের মধ্যে আটকে দেন৷ আমরা তখন আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিলাম৷ তারা আমাদের ভয় দেখাতে এবং আর না আগাতে আমাদের নৌকার চারপাশে গুলি করেন৷ উপকূলরক্ষীরা আমাদেরকে তাদের জাহাজে তুলে লিবিয়ায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন৷

সৌভাগ্যবশত, টিউনিশিয়ার উপকূলরক্ষীরাও সেখানে ছিলেন৷ তারা লিবীয়দের সাথে সমঝোতা করতে সক্ষম হন এবং আমাদেরকে জারজিসে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন৷ সমুদ্র পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতিবার আমার বারোশো থেকে আঠারোশো ইউরো খরচ করতে হয়েছে৷ আমি এই অর্থ কয়েকমাস ধরে জমা করেছি, কখনো কখনো আমার বন্ধুরা সহায়তা করেছে৷

দীর্ঘদিন আমার দুটো চাকুরি করতে হয়েছে: আমি একটি ক্যাফেতে ওয়েটার ছিলাম এবং পর্যটন মৌসুমে একটি হোটেলেও কাজ করতাম৷ আমি নগণ্য বেতনে দিনে ১০ ঘণ্টা করে কাজ করেছি৷ আমি একশত ৮০ ইউরোর মতো আয় করতাম৷

‘আমার প্রতিবেশি সব তরুণই ইটালি চলে গেছেন’

২০২০ সালের শুরুতে আমি কাজের চুক্তি বাতিল করে দেশত্যাগের দিকে মনোযোগী হই৷ আমি নিজেকে চালানোর মতোও বেতন না পাওয়া চাকুরি করতে গিয়ে নিজেকে মেরে ফেলতে চাচ্ছিলাম না৷ টিউনিশিয়ায় আপনি কাজ করার সময় হয় চুপ থাকতে হবে অথবা চাকুরি ছেড়ে দিতে হবে৷ আমার প্রতিবেশী সব তরুণ ইতোমধ্যে ইটালি পালিয়ে গেছেন৷ এখানে আর কেউ নেই, শুধু আমি একাই পড়ে রয়েছি৷

যদিও আমার ভাই ২০১১ সালে সাগরে হারিয়ে গেছেন, তারপরও আমি ভীত নই৷ কেননা, এখানেও আমাদের মৃতই মনে হয়৷ আমার জন্য বিষয়টি অনেকটা এরকম: হয় ভূমধ্যসাগরে মারা যাবো অথবা কোনো না কোনোভাবে ইউরোপে পৌঁছাবো৷ আমার ইচ্ছা ফ্রান্সে যাওয়া, সেখানে আমার বন্ধুরা রয়েছে৷ আমি সেখানে কয়েকবছর থাকতে এবং কাজ করতে চাই৷ এরপর জারজিসে ফিরে এসে আমার পরিবারের জন্য একটি বাড়ি বানাবো৷ আমার কাছে ফ্রান্সের বৈধ কাগজ পাওয়া জরুরী নয়, কেননা আমি সেখানে দীর্ঘসময় থাকতে চাই না৷

আমার বাবামা উদ্বিগ্ন, তারা আমাকে এভাবে ছাড়তে চান না৷ কিন্তু আমি বদ্ধপরিকর৷ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবারো সাগরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি আমি৷ প্রতিরাতে ঘাটমাঝির ফোনের অপেক্ষায় থাকি৷ আমার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমি থামবো না৷’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *