Wed. Jan 26th, 2022

 

বিএনপি এখন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করছে। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যে আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনের পরিণতি কি এ নিয়েও বিএনপির দ্বিধাবিভক্ত।

বিএনপি মনে করছে যে, এরকম আন্দোলন করলে সরকারের টনক নড়বে না এবং সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর যে দাবি সে দাবিও মানবে না। ফলে এই আন্দোলন দীর্ঘদিন চললে কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিবে।

তাছাড়া নতুন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, পুরনো মামলাগুলো সক্রিয় হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে এই আন্দোলন বেশীদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।

বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করেন যে, এভাবে আন্দোলন করে একটি বড় ধরনের গণবিস্ফোরণ তৈরি করা বা গণআন্দোলন তৈরি করা অসম্ভব এবং অবাস্তব বিষয়। এ কারণে বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করেন যে, আন্দোলনকে সফল করতে গেলে একজন নেতা প্রয়োজন আর এটি সম্ভব হতে পারে একমাত্র তারেক জিয়ার দেশে আসার মধ্য দিয়ে।

গতকালও বিএনপি নেতারা তারেক জিয়ার সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলেছেন এবং কথোপকথনে তারা তারেক জিয়াকে দেশে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপির একজন নেতা বলছেন যে, আন্দোলনে গতি দিতে হলে একটি উপলক্ষ লাগবে। বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যুতে বিএনপি ৮ দিনের মতো আন্দোলন করেছে। এই আটদিনের আন্দোলন কর্মসূচিতে কিছুই অর্জন হয়নি।

এর চেয়ে বড় ধরনের আন্দোলন করার সক্ষমতা এখন বিএনপির নাই। বিএনপি এখন একটি কাজই করতে পারে, তাহলো তারেক জিয়া যদি দেশে আসে তাহলে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে এবং তখন আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে যেতে পারবো। কিন্তু সেটি না করে আমরা যদি প্রতিনিয়ত এ ধরনের কর্মসূচি দেই, একসময় কর্মীরা হতাশ হয়ে যাবেন এবং তারা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিবেন।

সবচেয়ে বড় কথা হলো যে, বিএনপি যেটি আশা করেছিল যে তাদের আন্দোলনের সঙ্গে জনগণ যুক্ত হবে এবং জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে তেমনটি হয়নি। বরং জনগণের কাছে খালেদা জিয়ার বিদেশ গেলো কি গেলো না সেটা মুখ্য বিষয় নয়। বরং জনগণ এখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গণপরিবহনের ভাড়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বেশি চিন্তিত। অথচ এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপি এটিকে যুক্ত করতে পারেনি।

আর এ কারণেই বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য একজন নেতা দরকার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, যখনই বাংলাদেশের বড় ধরনের কোনো আন্দোলন হয়েছে তখন নেতাদের ভূমিকাই ছিলো প্রধান। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন যে, এরশাদের পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে দুই নেত্রীর ভূমিকা অবিস্মরণীয়। মানুষ একজন নেতাকে সামনে পেয়েছিল।

কিন্তু এখন জনগণের সামনে কোনো নেতা নেই। আর এ কারণেই তারেক জিয়ার দেশে আসার প্রয়োজন। বিএনপির অন্য একজন নেতা বলেছেন যে, তারেক জিয়া লন্ডন থেকে একের পর এক নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই সমস্ত নির্দেশনাগুলো অনেকটাই বাস্তবতা বিবর্জিত। কিন্তু তিনি যদি সামনে থাকতেন এবং মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিতেন, তিনি যদি দেশে আসার পর গ্রেপ্তারও হতেন তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। সেক্ষেত্রে আন্দোলনের একটি গতি পেত।

বিএনপির মধ্যে তারেকপন্থীরা মনে করছেন যে, তারেক জিয়া এলে হিতে বিপরীত ফলাফলও হতে পারে। কারণ, একেই বেগম খালেদা জিয়া সংকটাপন্ন। অন্যদিকে তারেক জিয়া যদি দেশে এসে গ্রেপ্তার হন তখন বিএনপির আর কিছুই থাকবে না এবং এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলবে বিএনপি।

তখন পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। কিন্তু বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করেন যে, মানবিক কারণে তারেক জিয়ার যেমন দেশে আসা উচিত। কারণ তিনি তার মায়ের একমাত্র জীবিত সন্তান। অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণেও তারেক জিয়ার দেশে আসা উচিত। কারণ, তিনি যদি দেশে এসে দলকে, সংগঠনকে নেতৃত্ব না দেন তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন কেন, কোন আন্দোলনেই বিএনপি সফল হতে পারবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.