Wed. Jan 26th, 2022

 

এ জেলাগুলো আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত জেলা বলে পরিচিত। কঠিন দুঃসময়ে এ জেলাগুলো থেকে আওয়ামী লীগ ভাল ফলাফল করেছে। এই জেলাগুলোতে আওয়ামী লীগের যথেষ্ট কর্মী-সমর্থক রয়েছে, ভালো নেতা রয়েছে।

কিন্তু বিভক্তি ও বিভাজনের কারণে এই জেলাগুলো এখন আওয়ামী লীগের মাথা ব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুতেই বিভক্তি কমছে না, খুনোখুনি হচ্ছে, ফলে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত জেলাগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগকে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

আগামী নির্বাচনের আগে এই জেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করাই আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। যে জেলাগুলো আওয়ামী লীগের এখন মাথা ব্যথার কারণ। তার মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর,, গাজীপুর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে আগামী ১৬ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচন শুধু নয়, পুরো নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেই আওয়ামী লীগ দ্বিধা বিভক্ত। একদিকে শামীম ওসমান, অন্যদিকে সেলিনা হায়াৎ আইভী। দীর্ঘদিন হয়ে গেলো এই বিরোধ যেন কিছুতেই মীমাংসিত হবার নয়।

ফলে দুজন দুই মেরুতে অবস্থান করছেন এবং যখনই কোনো নির্বাচন আসে তখনই এই দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান আওয়ামী লীগকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে। এবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে বলেই বিভিন্ন মহল শঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং এরকম পরিস্থিতির যদি এবার হয় তাহলে আওয়ামী লীগের জন্য সেটি একটি দুঃসংবাদ বয়ে আনতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

নরসিংদী: সাম্প্রতিক সময়ে নরসিংদী আওয়ামী লীগের একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ যেভাবে মারপিট করেছে সেটি সারাদেশে আওয়ামী লীগকে উদ্বিগ্ন করেছে। কিছুদিন আগে নরসিংদীর কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সহিংসতা এবং বিভক্তি এখন পর্যন্ত কমেনি। আর এই বিভক্তি যদি না কমে তাহলে আগামী নির্বাচনে নরসিংদীও আওয়ামী লীগের জন্য একটি বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিতে পারে।

ফরিদপুর: আপাতত ফরিদপুরের রাজনীতি এখন শান্ত। কাজী জাফরউল্লাহ এখন অনেকটাই কোণঠাসা, নির্বাসিত। ফরিদপুরের রাজনীতি এখন নিক্সন চৌধুরীর দখলে। কিন্তু এটি বাহ্যিক রূপ। নির্বাচন যতই কাছে আসবে ততই বাহ্যিক রূপ পরিবর্তন হবে এবং ফরিদপুরের রাজনীতিতে যে বিভাজন সেই বিভাজন ক্রমশ বড় হয়ে উঠবে। একসময় ফরিদপুরের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ছিল ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের কাছে। কিন্তু তিনি এখন কোণঠাসা। শুধু তিনি কোণঠাসাই নন, তার অনুগতরা এখন নানারকম সংকটে রয়েছে। আর এই বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত ফরিদপুরের রাজনীতিতে বিভক্তিটি চাপা তুষের আগুনের মত ধিকিধিকি করে জ্বলছে। যে কোন সময় বিস্ফোরন হতে পারে।

গাজীপুর: গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মহানগরের কমিটি থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও গাজীপুরে রাজনীতি শান্ত হয়নি। জাহাঙ্গীর আলম পন্থীরা এখনো নানারকম তৎপরতা চালাচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন। যে কোন সময় গাজীপুরে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। এই পরিস্থিতি সামাল কিভাবে দেয়া হবে সেটি নিয়ে আওয়ামী লীগের অনেকেই চিন্তিত।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের বিরোধ নয়। বরং জাসদ-আওয়ামী লীগ যেন মুখোমুখি অবস্থায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও এই অবস্থা হয়েছে। হাসানুল হক ইনু এবং মাহবুব-উল আলম হানিফের বিরোধ সেখানে একটি অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তবে একটি জিনিস লক্ষণীয় যে, কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ একট্টা অবস্থায় রয়েছে।

মাদারিপুর: মাদারীপুরে এখন আওয়ামী লীগ বিভক্ত। সেখানে একদিকে যেমন শাজাহান খান এবং আবদুস সোবহান গোলাপের আধিপত্যের চেষ্টা, অন্যদিকে বাহাউদ্দিন নাছিমের জনপ্রিয়তা। আর এটিই ক্রমশ মাদারীপুরে রাজনীতিকে বিভক্ত অবস্থায় নিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের রাজনীতিও এখন বিভক্ত। একদিকে মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর সিরাজগঞ্জ অনেকটা অভিভাবকহীন। মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র তানভির শাকিল জয় তরুণ এবং একইভাবে হাবিবে মিল্লাত সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে আধিপত্যের চেষ্টা করেন সর্বক্ষণ। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে কবির বিন আনোয়ারের পদচারণার কথাও শোনা যায়। সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে এখন নানামুখী স্রোত যেটি আওয়ামী লীগের অন্যতম ভোটব্যাংক  জেলা হিসেবে পরিচিত এই জেলাকে অস্থির করে তুলছে।

এই সাতটি জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আওয়ামী লীগের জন্য এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.