Tue. May 24th, 2022

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় তিনি বলছেন, ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ, বিএনপি জিন্দাবাদ’।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপির কোন একটি অনুষ্ঠানে তারেক জিয়া বলেন, ‘একটি লাশের বদলে ১০টি লাশ ফেলো। এই শপথ নিয়ে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজকের বক্তব্য শেষ করছি। পাকিস্তান জিন্দাবাদ, বিএনপি জিন্দাবাদ।’  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: নিরাপত্তাহীনতায় ফখরুল: বডিগার্ড নিয়োগ

চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি যতই বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি দিচ্ছে ততই নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন বিএনপি মহাসচিব। প্রতিদিনই বিভিন্ন রকম ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গাড়ি থেকে সমাবেশস্থলে নামার সাথে সাথে অনেক বিএনপির নেতাকর্মী তাকে ধুয়ো দিচ্ছেন, অনেকে তাকে গালাগালি করছেন।

আর যখন তিনি বক্তৃতা দিতে উঠছেন তখনই কেউ কেউ কর্মসূচির দাবি উচ্চারণ করছেন। কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলামকে চিৎকার করে জানান দিচ্ছেন। এরকম পরিস্থিতিতে উপর্যুপরি কয়েকটি দিন অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেছে। দুই-একজন কর্মী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পিটানোর হুমকিও দিয়েছেন।

আর সে কারণেই এত চিন্তিত, উদ্বিগ্ন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির মহাসচিব এখন সঙ্গে দুজন বডিগার্ড নিয়ে ঘুরছেন। যদিও বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে তারা বডিগার্ড না, তারা বিএনপি’র কর্মী। বিএনপি মহাসচিব যখন যেখানেই যান এই কর্মীরা তার সঙ্গে থাকেন। কিন্তু বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে এরা পেশাদার বডিগার্ড।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন কখনো কোনোভাবে আক্রান্ত না হয় সেজন্যই এই বডিগার্ডদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি এখন টানা কর্মসূচি দিচ্ছে। এসব কর্মসূচির অধিকাংশই বক্তৃতানির্ভর। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখার মধ্য দিয়েই এই ধরনের কর্মসূচিগুলো সীমিত। কিন্তু বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এ ধরনের শুধুমাত্র বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যে আন্দোলনকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তারা মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা সরকারের পতন ঘটাতে গেলে লাগাতার আন্দোলন দিতে হবে, সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি দিতে হবে এবং এ কর্মসূচির রোডম্যাপ থাকতে হবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণ্ডির বাইরে কোনো কর্মসূচি দিতে চাইছেন না।

বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বর্তমান সরকারের একটি গোপন সম্পর্ক রয়েছে এবং এই আঁতাতের কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কঠোর কর্মসূচি দিতে অনাগ্রহী। এমনকি যখন দলের নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চাপ দিচ্ছেন কঠোর কর্মসূচি দেয়ার তখনও তিনি সভা-সমাবেশের মধ্যেই সবকিছু সীমাবদ্ধ রাখছেন। দলের বৈঠকে তিনি পরিষ্কার ভাবে বলছেন অতি বিপ্লবী না হওয়ার জন্য। আর এর কারণেই দলের একটি বড় অংশ তার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যে শারীরিক অবস্থা তাতে যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে বিএনপি কিছুই করতে পারবে না।

আর এর প্রধান কারণ হলো বিএনপির সেই প্রস্তুতি নেই। আর প্রস্তুতি নেয়ার জন্য এখন থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়া উচিত। বিশেষ করে প্রতিটি জেলায় জেলায় সমাবেশ বিক্ষোভ, হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেয়া উচিত বলে জানিয়েছেন। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুইজন সদস্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা, সংসদ ঘেরাও, সচিবালয় ঘেরাওয়ের মত কর্মসূচির কথা বলেছিলেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কর্মসূচিতে রাজি হননি। তিনি বলেন যে, এই ধরনের কর্মসূচি দিলে বিএনপি চাপ সামলাতে পারবে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন ধাপে ধাপে কর্মসূচি দেওয়াটাই উত্তম। কিন্তু এরকম বাস্তবতায় বিএনপির মধ্যে এক ধরনের চরম অনাস্থা তৈরি হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যাপারে। উত্তেজিত কর্মীরা যেকোনো সময় যেকোনো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন নেতারা। আর এ কারণেই এখন বডিগার্ড নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.