Mon. May 23rd, 2022

 

‘আওয়ামী লীগ হিজড়াদের কাছে হেরে যায়’- বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু। বিএনপি নেতারা যে রাজনৈতিক ভাষা ভুলে গেছেন এবং আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করতে গিয়ে যে সকল ভাষা ব্যবহার করেন তার একটি উদাহরণ এটি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে আমাদের দেশে ঐতিহাসিকভাবে আমরা হিজড়া বলে সম্বোধন করি।

এখানে তৃতীয় লিঙ্গটাই ব্যবহার উচিত। কারণ হচ্ছে প্রতিটি মানুষেরই সম্মানবোধ আছে, তৃতীয় লিঙ্গের যারা তাদেরও একটি সম্মান আছে। আমি কাউকে সম্মানিত না করতে পারি কিন্তু অসম্মান করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। যে কথাটা ব্যবহার করলে তার সম্মানে আঘাত লাগতে পারে সেটিকে বাদ দেয়াই হচ্ছে শ্রেয়।

সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বলব আমাদের দেশে যেন আমরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষই বলি। নেত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমাদের দেশেও এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে মানুষ হিসেবেই সম্মানের সাথে স্বীকৃতি দিয়ে চলেছেন এবং তাদের মূল স্রোতে আনার জন্য চেষ্টা করে চলেছে।

যার জন্য তিনি ইউএনএ তে যখন ‘টু ইনক্লুডেড দ্যা এক্সক্লুডেড পিপল’ এই বক্তব্য মেইন সেশনে দেন এবং পরবর্তীতে এটি যাতে ইউএনএতে গ্রহণ করা হয় সেই জন্য কমিটি মিটিংয়ে যায়। দুই নম্বর কমিটির মিটিংয়ে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি ব্যস্ত থাকার কারণে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা নিজে লিখে আমাকে তার পরিবর্তে কি-নোট পেপার পড়ার জন্য ইউএনএতে পাঠান। সেখানে আমি তার পক্ষে সেই বক্তব্য তুলে ধরি।

সেখানে সমাজে অবহেলিত যারা মূল স্রোতে নেই মূলত তাদেরকে মেইনস্ট্রিমে এনে একই সাথে কীভাবে বসবাস করানোর অবারিত চেষ্টা তিনি করতেছেন সেটি তুলে ধরি। সেই ফিলোসফি নিয়ে এখনো নেত্রী সমাজের আর কোন লোককে বাইরে রাখতেছেন না। তার ফলশ্রুতিতেই আজকে তৃতীয় লিঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও একজন ইউপি সদস্য হতে পেরেছেন, মনে রাখতে হবে এটাও কিন্তু নির্বাচিত পদ। সুতরাং তিনি অবশ্যই একজন শ্রদ্ধেয় নির্বাচিত নেতা।

এখন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের যে সম্মান এর চেয়ে বেশি আর কি হতে পারে। আমরা নিয়মিত ভাবে দেখতে পাই যে, মোটামুটি কিছু মিডিয়ায় বিএনপিকে জীবিত রেখেছে। তাদের লাগামহীন কথাবার্তা আমাদের দেশে বিনোদনের এখন সুযোগ-সুবিধা কম সুতরাং বিএনপি নেতাদের কথাবার্তা থেকে আমরা অনেকেই বিনোদন পাই। আমাদের সব ঘোষিত সুশীল সমাজও বোধহয় বিএনপি’র কথা বার্তায় তারা খুব আনন্দ পান। এজন্য তারা বিএনপি কি বললো না বললো সেদিকে লক্ষ্য না করে তাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে নেত্রী শেখ হাসিনাকে কিভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় সেই চেষ্টা করা।

কেননা গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। এই কারণের জন্যই শেখ হাসিনাকে যতদূর, যেভাবে সম্ভব সেই আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সকলেই চেষ্টা করে চলেছে। টার্গেট আওয়ামী লীগ কি বলল। আসলে জানে এখানে মূল ক্ষমতার উৎস হচ্ছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসাবে বর্তমানে বেশ কিছু অসুবিধার মধ্যে আছে।

যদি রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না থাকতেন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান না থাকতেন, তাহলে আমার মতো লোকও আমার মনে হয় চিন্তিত হতাম। কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যতদিন রাজনীতিতে আছেন, সেই ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে বাষট্টির আন্দোলন কিছু দেখেছেন। বিশেষ করে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় বঙ্গমাতার সাথে নেত্রী শেখ হাসিনা একটা কঠিন সময় ফেইস করেছেন।

এর সাথে তুলনা করার মত বিশ্বে কম রাজনীতিবিদই আছেন যারা নাকি এইরকম ঝড়-ঝাপটা দেখেছেন। তার মধ্যেও টিকে আছেন। বরং এর থেকে তিনি রাজনৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করে এখন সঠিকভাবে দেশ চালাতে সক্ষম হচ্ছেন। যে নেত্রী সারাজীবন ঝড়-তুফান সুনামির মধ্যে চলে বিজয়ী হচ্ছেন ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও বিজয় একমাত্র তার ললাটে লেখা আছে। তাই না হলে তাকে একদম কাছে থেকে একাধিকবার গুলি করার পরও তিনি টিকে আছেন।

তার সবচেয়ে মারাত্মক উদাহরণ হচ্ছে বিএনপির তারেক জিয়ার আদেশে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা। তার থেকেও তিনি কিন্তু আল্লার রহমতে বেঁচে গেছেন। সুতরাং নিশ্চয়ই মহান আল্লাহতালা নেত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে দেশকে এখন মাত্র উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকেই এগিয়ে নিচ্ছে না বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও যাতে অনিয়ন্ত্রিত না থেকে ভ্রান্তিতে না ভুগে সঠিক পথে চলে সেটাও তিনি করে চলেছেন।

কিন্তু আমাদের নিজেই নিজেকে যারা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ভাবেন তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নেত্রীকে জনগণ থেকে কি করে আলাদা করা যায়। যদি আলাদা করা যায়, তাহলেই একমাত্র অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব অথবা গণতন্ত্রের নামে হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি শেষ করে দেওয়া যায় তাহলে দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র থাকবে না।

সুতরাং আপাতত আওয়ামী লীগের এই ঝড়ঝাপটা দেখে চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ এই ঝড়ঝাপটার চেয়ে বেশি তিনি বয়েছেন। যখন তিনি দেশের থেকে গেলেন তখন তার সব আছে যখন ফিরে আসলেন তখন তার পিতা-মাতা, ভাই থেকে শুরু করে নিকট আত্মীয়-স্বজন কেউ নাই। শুধু মাত্র দুই বোন দেশের বাইরে ছিলেন বলে বেঁচে ছিলেন। এমনকি দেশে ফিরে তিনি তার বাড়িতে পিতা মাতার জন্য দোয়া করতে পারেননি, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে দোয়া করতে হয়েছে।

সেই অবস্থা থেকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সমগ্র বিশ্বে আজকের শিক্ষিত এবং সমাদৃত। সুতরাং এই ছোটখাটো ঝড় যত বেগেই আসুক না কেন এইটা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তার পথ থেকে সামান্য টলাতে পারবে না এবং দেশবাসী দেখবে অতি শীঘ্রই আবার জননেত্রী যে পথে আগাচ্ছেন সেই পথেই দেশ এগিয়ে চলেছে এবং এই ঝড় ঝাঁপটা থেমে গেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে এমন কোনো রাত্রি নাই যেটা নাকি সকাল হয় না।

ঠিক তেমনি ভাবে সামান্য ঝড়-ঝাপটা দেখে ভাবার কোন কারণ নেই যে জননেত্রী শেখ হাসিনা একটা বিরাট বিপদের মধ্যে আছে। বরং আমি বলবো যে এই যারা নিজেরা নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখার জন্য তারা সুশীল সমাজ হয়েছেন, কেউ বা জাতির চিন্তা, বিভিন্ন সাজেশন, কিভাবে চলতে হবে এইসব নিয়ে চিন্তা না করে বরং যার যার নিজের চিন্তা করলেই বোধহয় বরং জাতি উপকৃত হবে দেশও উপকৃত হবে। তাদের আওয়ামী লীগকে নিয়ে বা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে চিন্তা করার মতো কোনো কারণ ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.