Sat. May 28th, 2022

 

বেগম জিয়ার সামনে এখন তিনটি পথ রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি তিনি বিদেশে যেতে চান তাহলে তাকে তিনটি কাজের যেকোনো একটি করতে হবে, এটি মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া বা তার মুক্তির ব্যাপারে যে তৎপরতা বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা নিয়েছেন, সেই তৎপরতার জবাবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকে এরকমটি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

এই তিনটির যেকোনো একটি পথ নিলেই বেগম জিয়া বিদেশ যেতে পারেন বলে সরকারি নীতিনির্ধারকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এই তিনটি পথের মধ্যে রয়েছে:

১. রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা: বেগম জিয়ার বিদেশে যাওয়ার সবচেয়ে সহজতম পথ হলো রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মওকুফের জন্য আবেদন করা। রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির কাছে যদি তিনি দণ্ড মওকুফের জন্য আবেদন করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন তাহলে রাষ্ট্রপতি এটি যদি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেন, সেক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এটিও বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া যদি এরকম আবেদন করেন তাহলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেন সেটি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করে, সেটি সরকার দেখবে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পক্ষে থাকলেও তারেক জিয়ার প্রবল আপত্তির কারণেই শেষ পর্যন্ত এটি সম্ভব হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা না হয় তাহলে এই পথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।

২. আদালতের কাছে আবেদন: বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ইত্যাদির রিপোর্ট নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে যেতে পারেন। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে এ সংক্রান্ত অনুমতি প্রার্থনা করতে পারেন যে, তার শারীরিক অবস্থা এতো খারাপ -এই জন্য আদালত শেষ পর্যন্ত বিচার বিশ্লেষণ এবং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়া দরকার, সেক্ষেত্রে আদালত বেগম খালেদা জিয়াকে অনুমতি দিতেই পারে। সেটি আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয়। আদালত যদি এরকম একটি অনুমতি দেয়, সেটি সরকারের জন্য প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক হবে।

৩. প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুকম্পা ভিক্ষা: তৃতীয় সুযোগটি হলো রাজনৈতিক সুযোগ। যেভাবে বেগম খালেদা জিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন, ঠিক একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পা ভিক্ষা করে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাইতে পারেন। কিন্তু সেরকম একটি অনুকম্পা চাওয়ার আগে একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একদিকে সরকারকে অবৈধ সরকার বলা হবে।

একদিকে সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হবে। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি, দুটি সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়া যদি মানবিক কারণে বিদেশ যেতে চান, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাকে অনুকম্পা ভিক্ষা করতে হবে। এই অনুকম্পা ভিক্ষা করার মাধ্যমেই তিনি বিদেশে যেতে পারেন এবং সেই সুযোগটি তখন সরকার বিবেচনা করতে পারে।

এই তিনটি সুযোগের বাইরে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকার স্বপ্রনোদিত হয়ে এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বা নিবে না বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.