Wed. Jan 26th, 2022

 

২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের ব্যাপারে অভিন্ন অবস্থানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত। বাংলাদেশের ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই দুটি দেশ অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করতো। বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী উত্তরণের সময় ভারত যা বলেছে সেটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে।

আস্তে আস্তে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাংলাদেশকে পর্যালোচনার ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি ভারত নির্ভর হয়ে পরে। ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি ইত্যাদি ব্যাপারে যে ধরনের মনোভাব পোষণ করবে সেটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মনোভাব, এরকম একটি অলিখিত নীতি চালু হয়েছিল।

কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছর পর সেই অবস্থান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরে এসেছে। এখন ভারত যেটি বলছে সে ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবক্ষেত্রে অভিন্ন মত পোষণ করছে না। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে বলেই জানা গেছে।

২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন আনার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতসহ আরো পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা ছিল। তারাই সহিংসতার রাজনীতি বিপরীতে একটি স্থিতিশীলতা আনার জন্য অনির্বাচিত সরকারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং সেনাসমর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পিছনে যে দুটি দেশ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছিল তা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত।

পরবর্তীতে ভারত আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের ব্যাপারে জোরালো অবস্থান নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই অবস্থানকে সমর্থন করে। ২০০৮ এর নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রভাব বাড়ে এবং এই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের যেকোনো নীতি ও অবস্থানের ব্যাখ্যা ভারত যেটি দিতো সেটিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হতো। আর এই অবস্থা ২০১৪ এর নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জন করে। কিন্তু তারপরও ভারত এ নির্বাচনকে সমর্থন জানায়। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ এর নির্বাচনে বিরোধী দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হয়। ওই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হয়।

আওয়ামী লীগ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকে। ২০১৮ সালেও ভারতের অবস্থানই ছিল বাংলাদেশের ব্যাপারে চূড়ান্ত। ভারত যে অবস্থান গ্রহণ করে, সেই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হবার পর বাংলাদেশের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ বাড়ে। এতদিন ধরে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অকুণ্ঠ সমর্থন জানাচ্ছিল এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সুবাতাস বইছিল।

কিন্তু বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাপারে মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং নজরদারি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার ইস্যু, গণমাধ্যম ইস্যু এবং বিরোধী মত দমনের অভিযোগগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমলে নিতে শুরু করে। কিন্তু ভারত সবসময় মনে করে বাংলাদেশ এখনো সঠিক পথেই আছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আস্তে আস্তে উন্নতি করছে বলেও ভারত মনে করে এবং দুই দেশের সম্পর্ক অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে একটি অন্য উচ্চতায় গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের ব্যাপারে নিয়েছে সেই সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে ভারত একমত নয় বলেও একাধিক কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গি, আর মার্কিন মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গি এখন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.