Wed. Jan 26th, 2022

 

বাংলাদেশ আগামীকাল বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে। আর এই সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি এখন বাংলাদেশে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাধীনতার ৫০ বছরে নানা সময়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। কখনো সম্পর্ক ছিল মধুর, কখনো সম্পর্ক হয়েছিল চ্যালেঞ্জিং।

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই টানাপোড়েনের মধ্যেও একথা অস্বীকার করার উপায় নেই ভারত আমাদের প্রতিবেশী। সবকিছু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশীর পাল্টানো যায় না। একটা সুপ্রতিবেশী থাকা মানেই দুদেশের উন্নতি, অগ্রগতিতে অবদান রাখা। আর সে কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আর এমন সময়ে এই প্রসঙ্গটি এসেছে যখন বাংলাদেশ বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন করছে, আর যেসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে মানবাধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশের দিকে নানা রকম প্রশ্ন উত্থাপন করছে। আর এইরকম প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা উঠেছে।

কিন্তু এই সব সমালোচনার জবাব পাওয়া যাচ্ছে ভারতের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়েই। অন্যদিকে আগামী জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এর মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত হচ্ছে যে, শেখ হাসিনাতেই আস্থা ভারতের।

কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করেই বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী ভারতে সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালনা করতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের জমিকে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীর জন্য ব্যবহার করতে দেননি।

এটিই দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই কূটনীতিকরা মনে করেন। আর এই কারনেই ভারত শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো এটি যে, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং সেখানে ভারত একটি অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধে।

ভারতের সহযোগিতা ছাড়া আমরা নয় মাসের যুদ্ধে দেশ স্বাধীন করতে পারতাম কিনা সেটি একটি বড় প্রশ্ন। আমাদের আরো সৌভাগ্যের বিষয় এই যে, আমরা ৫০ বছর পূর্তি করছি জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়েছে, এখনো চালাচ্ছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের উগ্র জঙ্গিবাদী গোষ্ঠির উত্থান ঘটানোর চেষ্টা, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নষ্ট করার প্রয়াস ইত্যাদি ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে আছে। অনেক সময় বলার চেষ্টা করা হয় যে, ভারত বিকল্প খুঁজছে বাংলাদেশের প্রতি, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রতি ভারত আর তেমন আস্থাশীল নয়, ভারত চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও অস্বস্তিতে রয়েছে।

কিন্তু এই সবকিছু উপড়ে ফেলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়ে। এই দুইটি সফরের মধ্য দিয়ে ভারত প্রমাণ করে দিল যে, শেখ হাসিনাতেই আস্থা ভারতের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.