Wed. May 25th, 2022

 

দুই রাত ধরে লোকালয়ের রাস্তায় সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে জঙ্গল থেকে আসা একটি হিংস্র চিতা বাঘ। কখনো রাস্তার গলি ধরে হাঁটছে, কখনো প্রাচীর টপকে ঢুকে যাচ্ছে কারো বাসার ভেতর। শেষ অবধি মধ্যরাতে লেডিস হোস্টেলে ঢুকে পড়ে ওই চিতাবাঘ। চিতাবাঘের হামলার ভয়ে ঘরবন্দি হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

সন্ধ্যা রাত তো দুর, দিনের বেলাতেও ঘর থেকে বেরুচ্ছেনা এলাকার বাসিন্দারা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের লখনৌ শহরে।রাস্তায় হেলেদুলে হেঁটে বেড়াচ্ছে চিতাবাঘ। জাল দিয়ে আটকাতে যাওয়ার চেস্টাকালে বন দফতরের এক কর্মী-সহ তিনজনকে ঘায়েল করে পালিয়েছে চিতাবাঘটি।

চিতাবাঘটিকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করেছে বন দফতর। লাঠি হাতে শুরু হয়েছে পাহারা। যদিও গোটা একটা দিন কেটে গেলেও, চিতাবাঘটির খোঁজ মেলেনি কোথাও। গত শনিবার রাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় প্রথম ধরা পড়ে চিতা বাঘটির আনাগোনা। এরপর লখনৌর রাস্তায় বারবার দেখা গেছে বাঘটির চলাচল।

গত রবিবার মাঝরাতে লখনৌ শহরের ইন্টিগ্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডিস হোস্টেলে ওই ঘটনায় চিতাবাঘটিকে তাড়াতে গিয়ে বাঘটির হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন । স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাঘের কামড়ে ঘাড় ও পিঠ থেকে রক্ত ঝরছে এক যুবকের। পরে চিতাবাঘটিকে ধরতে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সোমবার সকাল পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, লখনৌর পাহাড়পুর, আদিলনগর, কল্যাণপুর এলাকায় বারবার বার দেখা গেছে চিতাবাঘটিকে। যদিও তাকে ধরার সব রকম চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আতঙ্ক এতটাই ছড়িয়েছে যে ‘বাঘ’ তাড়াতে কেউ বাড়ির ভিতরেই তারস্বরে গান বাজিয়েছেন। কেউ আবার গলা ছেড়ে পড়েছেন হনুমান চালিসা। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজারের প্রকাশ, কল্যাণপুরের সীমান্তনগরের অঞ্জু যাদব জানান, তার ৫ বছরের ছেলে বাড়ির বাইরে খেলা করছিল। তিনি ছিলেন ঘরের ভিতরে।

ঠিক তখনই কেউ চিৎকার করে বলে তাদের কলোনিতে একটি চিতাবাঘ ঢুকে পড়েছে। অঞ্জু আরো বলেন, মুহূর্তের মধ্যে কী যেন একটা হয়ে যায়। আমার স্বামী ছেলেকে নিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। বিহারী মার্গের কাঞ্চনায় বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন অনিতা সিংহ। তার বাড়িও কল্যাণপুরে। অনিতা জানান, বিয়ে বাড়ি থেকে বাড়িতে ফেরার জন্য একটি অটোও পাননি তিনি।

শেষে এক ট্যাক্সিচালক মোটা টাকা ভাড়ার বিনিময়ে যেতে রাজি হন। কিন্তু সেই ট্যাক্সিও বাড়ি থেকে ২০০ মিটার দূরে কোনো মতে তাকে নামিয়েই উল্টো দিকে চলে যায়। অনিতা জানান, ওই রাস্তাটুকু প্রায় প্রাণ হাতে করে হেঁটেছেন তিনি। বাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে উচ্চগ্রামে গান চালিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে আওয়াজ শুনে চিতাবাঘটি তার বাড়ির ধারেপাশে না আর না আসে। জানকিপুরমের পাহাড়পুর এলাকার বাসিন্দারা অবশ্য কোনো ঝুঁকি নেননি।

চিতাবাঘটি ঘোরাফেরা করার খবর শুনে সেখানকার অনেকেই আগামী কয়েকদিনের বাড়িতে থাকার রসদ জুটিয়ে ঘরবন্দি হয়েছেন। উৎসবের মওসুমে বাড়ির বাইরে না বের হতে পারা এক রকম শাস্তিই। কিন্তু জানকিপুরমের রাশি জওহরির বক্তব্য, আনন্দ আগে না জীবন আগে!

Leave a Reply

Your email address will not be published.