Sat. May 28th, 2022

 

আস্তে আস্তে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করার চেষ্টা করছে দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ ইত্যাদি করার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের একটা দৃশ্যমান অবয়ব দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। বিএনপির একাধিক নেতা কর্মীরা মনে করছেন যে, আগামী মাস অর্থাৎ জানুয়ারিতে আন্দোলন আরো বেগবান হবে এবং ফেব্রুয়ারিতে তারা আন্দোলনের একটি চূড়ান্ত রূপ দিতে পারবে।

তবে সবকিছু নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। তারা মনে করছেন যদি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটে বা অন্য কিছু ঘটে সে ক্ষেত্রেই একমাত্র তীব্র আন্দোলন ঘটতে পারে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যদি বর্তমানের মতই থাকে তাহলে পরে বিএনপি’র পক্ষে বড় ধরনের আন্দোলন করা সম্ভব হবে না।

সর্বশেষ আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বেগম খালেদা জিয়ার ভাইয়ের আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর আইনি ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে আইনগতভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ আগের যে মতামতটি তিনি দিয়েছিলেন সেই মতামতেরই পুনরুক্তি করেছেন আইনমন্ত্রী।

\আইনমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বেগম জিয়াকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হয় তাহলে তাকে আবার জেলে যেতে হবে এবং জেল থেকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মতামতটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, এটি তাদের জন্য শাপে বর হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে যদি শেষ পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো তাহলে পরে আন্দোলনের আর কোন ইস্যু থাকতো না।

তখন বিএনপি’র জন্য সে পরিস্থিতিটা হতো বিব্রতকর। যেমন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান কে নিয়ে বিএনপি যখন আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল তখনই সরকার প্রধান ডা. মুরাদ হাসান কে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন। ফলে ইস্যুটি আড়ালে চলে যায়। ঠিক একইভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার নাটকীয় সিদ্ধান্ত সরকার নিতো সেক্ষেত্রে বিএনপি’র জন্য আন্দোলনের আর কোন ইস্যু থাকত না।

আর এ কারণেই বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে সরকার বিএনপির জন্য এক ধরনের উপকারই করেছে। এর ফলে বিএনপি আন্দোলনের সুযোগ পাবে। বিএনপির কোনো কোনো নেতা এটাও মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয় তাহলে পরে এই আন্দোলন তীব্র এবং বেগবান হবে। অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়ার উপরই বিএনপির রাজনীতি এখন নির্ভর করছে।

যদিও বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে, জনগণের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোকেও আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা দরকার তা না হলে শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যুতে আন্দোলন বেশী দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব হবে না। তাছাড়া বিএনপির এসব নেতাদের অতীত অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। তারা দেখেছেন যখন বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তখন বিএনপি কোনো আন্দোলন করতে পারেনি।

খালেদা জিয়াকে যখন ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হলো এবং কারাগারে রাখা হলো তখনও বিএনপি তার মুক্তির জন্য নূন্যতম আন্দোলনও করতে পারেনি। অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে যে বিএনপি ২-৪-৫ দিনের বেশি আন্দোলন করতে পারবে এটি নিয়ে বিএনপি’র অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাই তারা মনে করে যে, শুধু বেগম খালেদা জিয়ার ইস্যু নয় বর্তমান সরকারের নেতিবাচক বিভিন্ন দিক গুলোকে সামনে নিয়ে এসে একটি সুনির্দিষ্ট রূপকল্প তৈরি করে কর্মসূচী ভিত্তিক আন্দোলন করা উচিত।

তবে বিএনপির অনেকেই মনে করছেন যে, ফেব্রুয়ারিকে টার্গেট করে যদি চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয় তাহলে সেটি বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। তারা মনে করছেন যে, হঠাৎ করেই আন্দোলন বেগবান হয়ে যায় এটির জন্য সংগঠন বা দীর্ঘ প্রস্তুতি রাখার প্রয়োজন হয়না। দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে আন্দোলন কখনো হয়না। বিএনপি নেতাদের এখন যা হিসেব তাহলো তারা জেলায় জেলায় সমাবেশগুলো শেষে বড় ধরনের কিছু কর্মসূচি দেবে জানুয়ারিতে এবং ফেব্রুয়ারি মাস কে ধরে একটা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ দেয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেটি আবার ব্যর্থতায় পর্যবসত হবে কিনা সেটি সময়ই বলে দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.