Wed. Jan 26th, 2022

 

আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর বেগম খালেদা জিয়ার আপাতত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে গেল। তবে আইন মন্ত্রী সরাসরি জানিয়েছেন তিনি যদি নতুন করে আবেদন করেন তাহলে তার আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে, সেক্ষেত্রে তাকে আবার জেলে যেতে হবে।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এখন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাঁর যে শারীরিক অবস্থার কথা বলছেন সেই অবস্থায় তার পক্ষে আত্মসমর্পণ করে জেলে যাওয়া কতটুকু সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বয়োপ্রবীণ একজন মানুষের পক্ষে হাসপাতাল ছেড়ে জেলে যাওয়া সম্ভব নয় বলেই অনেকে মনে করছেন।

তাই আইনমন্ত্রী যে পথ বাতলে দিয়েছেন সে পথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অসম্ভব কারণ এখন তিনি আত্মসমর্পণ করে জেলেও যেতে পারবেন না এবং জেলে থেকে নতুন করে আবেদন করাও সম্ভব হবে না। তবে আইন মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান আবেদন নাকচ করে দিলেও এখনো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন আইনজীবী মনে করছেন।

তারা মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির এখন সবচেয়ে সহজ পথ হলো রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা। বেগম খালেদা জিয়া যদি রাষ্ট্রপতির কাছে তার অসুস্থতার কথা বলে দণ্ড মওকুফের জন্য আবেদন করেন তাহলে সেই আবেদনটি রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করতে পারেন। এমনকি আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মওকুফের আবেদন করলে বা ক্ষমা প্রার্থনা করলে নিশ্চয় সেটি বিবেচনা করা হবে।

অনেকেই মনে করছেন বেগম খালেদা জিয়া যদি সত্যি সত্যি গুরুতর অসুস্থ হন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন হয় তাহলে এই আবেদন করাটাই সবচেয়ে যৌক্তিক হবে। কারণ তখন সরকারের উপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হবে না যে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে রাষ্ট্রপতি কাছে আবেদন করার পরেও তাকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

বিভিন্ন সূত্র বলছে শুধু আওয়ামী লীগ নয় বরং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলও বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠদেরকে এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন যে বেগম খালেদা জিয়ার এখন উচিত হবে যেকোনো মূল্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা আর সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তিনি চাইলেই রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার সামনে আর দুটি পথ আছে।

তবে দুটি পথই সহজ এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অর্জনযোগ্য নয়। প্রথমটি, আইনি লড়াই করা। বেগম খালেদা জিয়া যদি তার উন্নত চিকিৎসার আবেদন করে হাইকোর্টে আবেদন করেন এবং হাইকোর্ট যদি তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় সে ক্ষেত্রে সরকার বাধা দেবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে যদি আদালত কোন সিদ্ধান্ত দেয় তাহলে সে সিদ্ধান্ত সরকার মেনে নেবেন। উল্লেখ্য এর আগে যারা বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ছিলেন তারা আদালতের অনুমতি নিয়েই বিদেশে গেছেন। যাদের মধ্যে প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন অন্যতম।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় আদালতই তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। কাজেই বেগম খালেদা জিয়া আদালতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার বলেই অনেকে মনে করছেন। কারণ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা রয়েছে যার মাঝে দুটি মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন এবং একটি মামলায় হাইকোর্ট তাঁর দণ্ড বহালই রাখেনি বরং বাড়িয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে আদালতের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়াটা তার জন্য জটিল। আর সেকারণেই বিএনপি সে পথে পা বাড়াচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

দ্বিতীয়টি, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সর্বশেষ উপায় হলো রাজনৈতিক সমঝোতা। বেগম খালেদা জিয়ার দল যদি শেষ পর্যন্ত সরকারের সাথে একটি সমঝোতায় উপনীত হতে পারেন তাহলে হয়তো বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু বিএনপি নেতারা এখন যে ভাষায় কথা বলছেন এবং যে ভাষায় এখন সরকার পতনের ডাক দিচ্ছেন তাতে সে সমঝোতা সুযোগ কতটুকু আছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আদৌ বিএনপি নেতারা চান কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে।

কাজেই বেগম খালেদা জিয়া এখন কি করবেন সেটি তার এবং তার পরিবারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি কি বিএনপির রাজনীতির দাবার গুটি হবেন নাকি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন এবং সেজন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবেন এই সিদ্ধান্ত দ্রুতই নিতে হবে তার পরিবারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.