Sat. May 28th, 2022

 

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক একটি তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত যারা মানবে না তারা কখনো দলের লোক হতে পারেন না।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থীরা সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে এই কর্মী সমাবেশে বক্তব্যে বলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানকের এই বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক যেদিন বক্তব্য দিলেন সেই একই দিন আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জের হেভিওয়েট নেতা শামীম ওসমান আরেকটি চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেন। তিনি কারও নাম না বলে বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সাথে বেইমানি করে, তাদের সাথে কোন আপস নয়।

তিনি ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে বিমানবন্দরে মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর কাছে ছিল এবং সে বঙ্গবন্ধুকে বুঝিয়েছিল যে তাজউদ্দীন আপনাকে আসতে দেয়নি। সুসময়ে যারা বন্ধু হয় দুঃসময়ে তারা দূরে সরে যায়। এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন বলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং শামীম ওসমানের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন যে, শামীম ওসমান এখন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ কারণেই শামীম ওসমানকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগ চাইছে যে, শামীম ওসমান এই নির্বাচনে আইভীর পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করুক। কিন্তু তিনি যেন আইভীর বিরোধিতা না করে। আইভীর বিরোধিতা না করলে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অনিবার্য বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে সমন্বয়ক হিসেবে আওয়ামী লীগের এই হাই প্রোফাইল নেতাকে দায়িত্ব দেয়ার প্রধান কারণ হলো শামীম ওসমান। শামীম ওসমান রাজনীতিতে কি কি কৌশল করতে পারেন আইভীকে পরাজিত করার জন্য সে সম্পর্কে বুঝা/জানার জন্য রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দরকার।

আর এজন্যই জাহাঙ্গীর কবির নানককে দেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীর কবির নানক এখন প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে যাচ্ছেন এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে তিনি কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম সহ আওয়ামী লীগের নেতারা তিনটি কাজ করছেন।

প্রথমত, তারা আইভীর পক্ষে প্রচারণার জন্য নেতাকর্মীদের সঙ্ঘবদ্ধ করছেন। দ্বিতীয়ত, তারা আওয়ামী লীগের মধ্যে যেন কোন বিভক্তি না থাকে নির্বাচনে যেন আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করেছেন এবং তৃতীয়ত, শামীম ওসমানকে নজরদারিতে রাখছেন।

শামীম ওসমানই এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হারা এবং জেতার মধ্যবর্তী অবস্থানে রয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করেন। তারা মনে করেন যে, শামীম ওসমান যদি কিছু না করে চুপচাপ বসে থাকেন তাহলেই পরে হয়। কিন্তু শামীম ওসমান নীরবতা ভঙ্গ করে গতকাল কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। এই বক্তব্য গুলো কর্মীদের মধ্যে নানা রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন।

তাছাড়া শামীম ওসমানের নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের মধ্যে জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তার সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মী বাহিনী রয়েছে। এই কর্মীবাহিনীরা যদি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আইভীর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন তাহলে পরে এটি অন্যরকম একটি ফলাফল হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। আর একারণেই এখন নজরদারিতে রয়েছেন শামীম ওসমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.