Wed. Jan 26th, 2022

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে এক্স-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে হেফাজত এবং জামায়াত। হেফাজতের একটি শক্ত ঘাঁটি রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। পাঠকদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, হেফাজতের নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিলেন রমনীবিলাসে। সেখানে তিনি তার বান্ধবী অথবা দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আমোদ-ফুর্তি করার জন্য একটি রিসোর্টে সময় কাটিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি জনগণের হাতে ধৃত হন। যখন জনগণ তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ, এসময় ওই রিসোর্ট ঘিরে ফেলে হেফাজতের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীবাহিনী। তারা একরকম ছিনতাই করে মামুনুল হককে সেখান থেকে উদ্ধার করেছিল। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং এই শক্তিশালী অবস্থানটি ভোটব্যাংকেরও ইঙ্গিত বহন করে।

সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিল, হেফাজত সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু হেফাজতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো হয়। বলা হয় যে, নারায়ণগঞ্জে সিটি নির্বাচনে হেফাজত সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দেয়নি। এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

নারায়ণগঞ্জে বিপুলসংখ্যক মাদ্রাসা রয়েছে এবং এই মাদ্রাসাগুলিতে ভোট হয় নির্দেশ অনুযায়ী। অর্থাৎ হেফাজতের নেতারা যে নির্দেশ দেন হেফাজতের কর্মীরা সে নির্দেশ প্রতিপালন করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে, নারানগঞ্জ সিটি নির্বাচনে হেফাজত কাকে সমর্থন করবে এবং হেফাজতের যে বিপুল কর্মীবাহিনী রয়েছে তারা কার পক্ষে ভোট দেবে। এটি নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে একটি বড় তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

নারায়ণগঞ্জের তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দেখা গেছে, আইভীর পক্ষে হেফাজতের ভোট ছিলো এবং হেফাজতের ভোটব্যাংক সেলিনা হায়াৎ আইভী ভালোমতোই ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এবার হেফাজতের এই ভোটব্যাঙ্ক সেলিনা হায়াৎ আইভী পাবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। কারণ তৈমুর আলম খন্দকার এই নির্বাচনে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করছেন। একদিকে তিনি যেমন আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তিনি হেফাজতের ভোট পাওয়ার জন্য চেষ্টা তদবির করছেন।

তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, হেফাজত এখনো এই নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান গ্রহণ করেননি। হেফাজত তিনটি অবস্থানের যেকোনো একটি নিতে পারে। প্রথম অবস্থান হলো যে, তাঁরা সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন করবে। দ্বিতীয় অবস্থান, তারা তৈমুর আলম খন্দকারকে সমর্থন করবে। তৃতীয় অবস্থান, আইভী বা তৈমুর কাউকে সমর্থন না করে তারা ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ওপর নির্বাচন ছেড়ে দিবেন। এই তিনটির মধ্যে প্রথমটি এবং তৃতীয়টি হলে আইভীর লাভ।

তবে যদি হেফাজত এই নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারকে সমর্থন দেয় তাহলে এই নির্বাচন আরো জটিল হয়ে পড়বে। নারায়ণগঞ্জে জামায়াতেরও একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে এবং জামায়াত এই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জামায়াত তৈমুর আলম খন্দকারের প্রতি যে সমর্থন জানাবে তা বলাই বাহুল্য। তবে জামায়াত স্থানীয় নির্বাচন করে নানারকম হিসেব-নিকেশ মিলিয়ে।

শেষ পর্যন্ত তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের সম্পর্ক কি তা এবং এই নির্বাচন রাজনীতিতে কি মেরুকরণ করবে ইত্যাদি নানা রকম হিসেব-নিকেশ করে তারা ভোট দেবে। জামায়াতের একটি বড় হিসাব হলো তারা শামীম ওসমান বিরোধী। এই নির্বাচনে যদি শেষ পর্যন্ত সেলিনা হায়াৎ আইভী পরাজিত হয় তাহলে শামীম ওসমানের রাজত্ব নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হবে। শামীম ওসমান যদি একক নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন, তাহলে জামায়াতের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। এই হিসেবটি জামায়াত সবসময় মাথায় রাখে।

কারণ, নারায়ণগঞ্জে জামায়াত মাথা গুঁজে আছে শামীম ওসমান এবং সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরোধের কারণে। আর সে কারণেই জামায়াত এই সিদ্ধান্ত কেবল বিএনপি-আওয়ামী লীগের ভোটের লড়াই হিসেবে নেবে না, জামায়াত এই সিদ্ধান্ত নেবে অনেক ভেবেচিন্তে এবং তাদের রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসেব নিকেশ করেই। সেই বিবেচনা থেকে এই নির্বাচনে জামায়াত আসলে কাকে সমর্থন দিবে সেটি বুঝতেও আমাদের আর অপেক্ষা করতে হবে। তাই হেফাজত এবং জামায়াতের অবস্থান কী হবে, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে এটি বুঝতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ভোটের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.