Wed. Jan 26th, 2022

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিন বছর মেয়াদ পূর্ণ করলো। এই তিন বছরে সরকারের যেমন সাফল্য আছে, তেমনি ব্যর্থতা আছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদেরও সাফল্য-ব্যর্থতার হিসেব-নিকেশ করে জনগণ।

১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা: এই তিন বছরে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে সফল রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তৃতীয় বছর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই সব ভার সামলাচ্ছেন এবং তার একক নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন, যা কিছু সাফল্য।

শেখ হাসিনা নিঃসন্দেহে শুধু আর সরকারের নয়, দেশের সেরা ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশের গণ্ডী ছাড়িয়ে তিনি এখন বিশ্বনেতা হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছেন। শেখ হাসিনাকে এখন মনে করা হয় বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রার প্রতীক। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতির পথের দিশারী হয়েছেন।

জনগণ এখনো আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আস্থাশীল এই কারণে যে, শেখ হাসিনা আছেন। শেখ হাসিনাকে মনে করা হয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকরূপ হিসেবে। আর এ কারণেই শুধু সরকারে নয়, গোটা দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি হলেন শেখ হাসিনা। তিনি নিঃসন্দেহে ৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে সফল ব্যক্তি।

২. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল: তৃতীয় মেয়াদে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই সাফল্য দেখিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম সফল মন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আসাদুজ্জামান খান কামালের আগে কোন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কমুক্ত থাকতে পারেননি।

এমনকি সাহারা খাতুনের মত আওয়ামী লীগের পোড়খাওয়া নেতাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে এসে বিতর্কিত হয়েছিল। সেখানে আসাদুজ্জামান খান কামাল ধীর-স্থির এবং শান্তভাবে মন্ত্রণালয় সামলিয়েছেন। জঙ্গিবাদ দমন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে তার ভূমিকা ছিলো প্রশংসিত।

সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিলো মন্ত্রী হিসেবে তার ব্যক্তিত্ব এবং গ্রহণযোগ্যতা। অনেক ক্ষেত্রেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অনেক ব্যর্থতা আছে কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে তিনি খেলো কথা বলেননি, হালকা কথা বলেননি, এমনকি মন্ত্রণালয়ের একটি উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি করেছেন।

৩. ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী: বাংলাদেশের ভূমিমন্ত্রীরা সব সময় পাদপ্রদীপের আড়ালেই থাকেন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের যারা বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন তারা রুটিন কাজের মধ্যে থাকেন। কিন্তু এবারের ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী নিজেকে অনন্য উচ্চতায় রেখেছেন।

ভূমি ডিজিটালাইজেশন, ভূমির আধুনিকীকরণ, ভূমি ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গুলো দেশে-বিদেশে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০১৯ সালের আগে ভূমি মন্ত্রণালয় ছিল সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়গুলোর একটি। সেখান থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়কে একটি দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় করে আনা তার একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আর এই মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন, ভূমি ক্ষেত্রে জালিয়াতি, দুর্নীতি বন্ধের ক্ষেত্রে তার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ জাতীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ভূমি ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তির অবসান করার ক্ষেত্রে বর্তমান মন্ত্রী নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

৪. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন গৃহায়ণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তার নেতৃত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক নতুন রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে করোনার সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদখাত এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

এসময় বাংলাদেশের মানুষের আমিষ এবং পুষ্টি চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয় নিরন্তর পরিশ্রম করেছে এই মন্ত্রীর নেতৃত্বে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ডিম, দুধ, মুরগি এবং অন্যান্য প্রাণীজ আমিষ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও এই সময় বাংলাদেশ যেমন মৎস্যখাতে স্বয়ং সম্পন্ন হয়েছে, ঠিক তেমনি প্রাণী সম্পদেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করেছে।

৫. কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক: বাংলাদেশ এখনো যে অর্থনীতিতে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমাদের কৃষি খাত। আর ড. আব্দুর রাজ্জাক কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি কৃষিমন্ত্রী হিসেবে কৃষিখাতকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং করোনার মধ্যে বাংলাদেশের খাদ্যের চাহিদা প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই তিনি প্রশংসা প্রশংসা পাবার যোগ্যতা রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.