Sat. May 28th, 2022

 

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। ভোট গ্রহণের দিন যত সামনে এগিয়ে আসছে ততই যেনো স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। তাদের শঙ্কা নৌকা প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীকে জেতানোর জন্য ভোটের আগে পুরনো মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে হাতি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত তৈমূর আলম খন্দকার তাই ভোটের আগে গ্রেফতার এড়াতে এক নতুন কৌশল নিয়েছেন। তাঁর শিবির থেকে পোলিং এজেন্টদের তালিকা আগেই নির্বাচন কমিশনে জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভোটের দিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন তাদের এজেন্টরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পদ ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার পদ থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষেই ভোটের মাঠে আছেন।

গত সোমবার তৈমূর আলমের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা নির্বাচন সমন্বয়কারী মনিরুল ইসলাম রবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রবি সিদ্ধিরগঞ্জে হাতি প্রতীকের পোলিং এজেন্টের তালিকা তৈরির কাজ করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ ওই তালিকা নিয়ে গেছে বলে তৈমূরের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।

তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পোলিং এজেন্ট তালিকার বিষয়ে কৌশলী হওয়ার ভাবনা শুরু হয় তৈমূর শিবিরে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, এবার এজেন্টদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেবে না তারা। তাদের আশঙ্কা, তালিকা জমা দিলে ওই তালিকা ধরে গ্রেপ্তার শুরু করতে পারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তিন সেট পোলিং এজেন্টের তালিকা তৈরি করেছি। একজনকে গ্রেপ্তার করা হলে অন্যজন দায়িত্ব পালন করবেন। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে আমরা পোলিং এজেন্টদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেব না। ভোটের দিন সকালে এজেন্টরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন।’ তৈমূর আলম অভিযোগ করেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে গভীর রাতে আমার কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ কাজ করছে।’

জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, গত সোমবার সিদ্ধিরগঞ্জের বাসা থেকে রবিকে গ্রেপ্তারের পর অন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির অনেক নেতা কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে তৈমূরের পক্ষে কাজ করছেন। কারণ, দলের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ২৫-৩০টি মামলা আছে। নির্বাচনের আগে পুরনো ওই সব মামলায় তৈমূরের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তারের শঙ্কা রয়েছে। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর মাছদাইর এলাকায় তৈমূর আলমের বাসভবনের নিচে নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পোস্টার ঝোলানোর কাজ করছেন চারজন কর্মী। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই সোহেল খন্দকার।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের পুলিশ হয়রানি করছে। আমাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ তৈমূরের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব এ টি এম কামাল। তিনি বলেন, ‘আমি একটা ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছি। যেকোনো সময় আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের কিছু করার থাকে না।’ গতকাল পর্যন্ত তৈমূর আলম খন্দকারের কতজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি কামাল।

তবে এই সংখ্যা ৮-১০ জন হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান তৈমূরের এক নিকটাত্মীয়। তবে তৈমূর ও তাঁর অনুসারীদের অভিযোগকে অসত্য বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপির সারা জীবনের অভ্যাস হলো—মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানো। তৈমূর আলমও বিএনপির নেতা হিসেবে সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জে সব প্রার্থী নির্বাচনী কাজে সমান সুযোগ পাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ‘হয়রানি ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ ভিত্তিহীন। নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ কোনো অভিযান পরিচালনা করছে না। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.