Mon. May 23rd, 2022

টানা ১৩ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। তৃতীয় মেয়াদে তিন বছর পার করেছে দলটি। কিন্তু তৃতীয় বছরে এসে আওয়ামী লীগ শুরু থেকে যেন চাপের মধ্যে পড়েছে। জাতীয়-আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে সরকারের মধ্যে চাপ বাড়ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই চাপগুলো সামলাতে হবে আওয়ামী লীগকে।

আর এই চাপ সামলাতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে সরকার এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেসব বিষয় নিয়ে সরকার চাপে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন তার মধ্যে রয়েছে:

১. আন্তর্জাতিক চাপ: হঠাৎ করেই সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং এর ফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গত ডিসেম্বর মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৭ শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তাদের গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়নি।

এই বিষয়গুলো নিয়ে যেভাবে সিরিয়াসলি কাজ করা দরকার ছিলো সেটি করতে পারেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দূতাবাসের। ফলে বাংলাদেশের ওপর এখন চাপ আরও বাড়ছে। বিভিন্ন মহল বলছে, জো বাইডেন সাম্প্রতিক সময়ে যে দুর্নীতিবিরোধী ঘোষণা দিয়েছেন সেই ঘোষণাও বাংলাদেশের ওপর নতুন ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি জাতিসংঘে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১২টি সংগঠন র‍্যাবকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছে। এটি নিয়েও এখন বাংলাদেশের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে।

২. দেশবিরোধী প্রচারণা: সোশ্যাল মিডিয়া যেন এখন আওয়ামী লীগ সরকার এবং বাংলাদেশেবিরোধী প্রচারণার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইডেন এবং ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লাগাতারভাবে বাংলাদেশবিরোধী আজগুবি মিথ্যা তথ্য সন্ত্রাস চলছে। আর এই তথ্য সন্ত্রাসের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশবিরোধী এই অপপ্রচার বন্ধের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নিতে পারেনি। ক্রমশ্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণার লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩. অশান্ত শিক্ষাঙ্গন: গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষাঙ্গনগুলো অশান্ত হয়ে উঠেছে। শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এখন শুরু হচ্ছে গণ-অনশন। তারপরও উপাচার্য পদত্যাগ করছে না। সরকারও সময়ক্ষেপণ করছে। যেকোনো সময়ই শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এ ব্যাপারে এখনই সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

৪. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: সরকার কিছুতেই দ্রব্যমূল্যের লাগাম থেকে টেনে ধরতে পারছে না। একের পর এক বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। চালের দাম এখন ভরা মৌসুমেও ঊর্ধ্বমুখী। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও নাগালের বাইরে। করোনার পরে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা যখন একটু খারাপ সেই সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সরকারকে একটা নতুন অস্থিরতার মধ্যে ফেলেছে। এখন যদি এই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না আনা যায় তাহলে ভবিষ্যতে জণঅস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে।

৫. নির্বাচন কমিশন: নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়েও সরকার চাপের মধ্যে পড়েছে। বিভিন্ন মহল নতুন নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত আইনকে নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এটি নির্বাচন কমিশনের আইন না বরং সার্চ কমিটির আইন। আর এই বাস্তবতায় নতুন নির্বাচন কমিশন আইন সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই আইনটি পাশ হলে তা কতটুকু অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে সেটা দেখার বিষয়।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের মুখোমুখি হতে পারে বলে অনেকে মনে করছে, এটিও সরকারের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চাপগুলো সামাল দিয়ে আগামী দুই বছর নির্বিঘ্নে দেশ চালাতে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.