Home / রাজনীতি / আমীর খসরু: রাজনীতিতে একজন জেন্টেলম্যান

আমীর খসরু: রাজনীতিতে একজন জেন্টেলম্যান

একজন বিদেশি কূটনীতিক বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এই বৈঠকে বিভিন্ন পর্যায়ের উত্তাপ-উত্তেজনা ছিল, আলোচনা ছিল।

 

ঐ কূটনীতিক বারবার বিএনপির একজন নেতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন এবং বিএনপির ঐ নেতা যখন কথা বলছিলেন তখন তিনি নোট নিচ্ছিলেন। এরপর ঐ বৈঠক শেষ হয়ে যাওয়ার পর ঢাকায় নতুন দায়িত্ব নেওয়া ঐ কূটনীতিক তাঁর সহকর্মীকে বলছিলেন যে, ‘হি ইজ অ্যা ট্রু জেন্টেলম্যান ইন পলিটিক্স, তিনি কিভাবে বিএনপি করেন?’

 

এই প্রশ্নটি যাকে নিয়ে করেছিলেন তাঁর নাম আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। বিএনপির মতো একটি আধা-সাম্প্রদায়িক, আধা প্রতিক্রিয়াশীল এবং আদর্শবিহীন রাজনৈতিক দলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সবসময় বেমানান মনে হয়েছে। কারণ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একজন পরিমার্জিত, রুচিশীল এবং বাক সংযমী মানুষ। রাজনৈতিক জীবনে তাকে কখনোই বাড়াবাড়ি রকমের উগ্র কথাবার্তা যেমন বলতে দেখা যায়নি, তেমনি রাজনীতিতে যে পরিমিতির সীমা তাও লঙ্ঘন করেননি।

 

বিএনপির একজন রাজনীতিবিদের চেয়েও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচিত এবং প্রতিষ্ঠিত। চট্টগ্রামে ব্যবসায়িক কারণেই বিএনপির এমপি হয়েছিলেন এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক রাজনীতিতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপির একজন আঞ্চলিক নেতা থেকে ক্রমশ তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতায় পরিণত হন। ২০০৭ সালের পর তিনি বিএনপিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসাবে স্বীকৃতি পান।

 

চট্টগ্রামে বিএনপির প্রধান নেতা হিসাবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল নোমানকে টপকে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ধারণা করা হয় একজন ভালো মানুষ এবং ভদ্রলোক হিসাবেই বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে তিনি জায়গা পেয়েছেন। তাছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। আমির খসরু মাহমুদ সম্বন্ধে বিএনপিতে সবসময় এক ধরণের ইতিবাচক কথাবার্তা শোনা যায়। বিশেষ করে তিনি সজ্জন ব্যক্তি।

 

নেতাকর্মীদেরকে সহযোগিতা করেন এবং চাঁদার টাকায় দল চালাননা, বরং নিজের টাকা দলের জন্য খরচ করেন এরকম কথাবার্তা প্রায়ই শোনা যায়। তবে তার ব্যাপারে রাজনীতিতে সবচেয়ে যে ইতিবাচক কথা তা হলো, তিনি হলেন পরিমার্জিত, পরিশীলিত এবং মিষ্টভাষী একজন রাজনীতিবিদ। যেটি আসলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান। আর এ কারণেই বিএনপির অনেকেই মনে করেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চেয়ে যদি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন তাহলে দলটি আরো ভালো করতো।

 

বিএনপিতে এই মুহুর্তে মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিটির নামও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আমির খসরুর আরেকটি ইতিবাচক দিক রয়েছে যে, মা ছেলের বিভাজনের রাজনীতিতে আমির খসরু হলেন এক ব্যতিক্রম যার সঙ্গে বেগম জিয়া এবং তারেক- দুজনেরই সমান সম্পর্ক রয়েছে। এর কারণ হলো বেগম খালেদা জিয়া যেমন আমির খসরুর উপর অনেক বিষয়ে নির্ভর করেন এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে আমির খসরুর গ্রহণযোগ্যতা বেশি রয়েছে, আবার ঠিক তেমনিভাবে তারেক জিয়া অর্থকড়ি এবং নানা রকম সুবিধার জন্য আমির খসরুর উপর নির্ভরশীল।

 

কারণ আমির খসরুর বৈধ ব্যবসা রয়েছে। তারেক প্রথমদিকে যখন লন্ডনে গিয়েছেন, সেই সময় আমির খসরুই একমাত্র নেতা ছিলেন যিনি তারেককে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তবে সবকিছুর পরও আমির খসরুকে মনে করা হয় একজন ব্যবসায়ী এবং এলিট শ্রেনীর নেতা। বিএনপির তৃণমূল কিংবা একেবারে সাধারণ কর্মীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কম।

 

কিন্তু গত কয়েকবছরে আমির খসরু প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সঙ্গেও এক ধরণের যোগাযোগ করেছেন, তবে তিনি রাজনীতি করার জন্যই বিএনপি করেন নাকি একটি পরিচয় রাখার জন্য বিএনপি করেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন, কারণ বিএনপির কোন আদর্শ বা নীতি কৌশল যে তিনি ধারণ করেন না এটি বিএনপির মধ্যেকার নেতারা সহজে বলেন। বিএনপির মধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রধান সমালোচনা হলো এটি যে, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও এখনো আসল বিএনপি নেতা হিসাবে উদ্ভাসিত হতে পারেননি।

About mk tr

Check Also

আজ হোক কাল হোক এই নির্বাচন কমিশনারের ফাঁ’সি হবে বাংলার মাটিতে হবেই

  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেছেন, জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে দিনের ভোট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *