Breaking News
Home / রাজনীতি / জাফরউল্লাহ কে মন্ত্রী হিসেবে চান নিক্সন

জাফরউল্লাহ কে মন্ত্রী হিসেবে চান নিক্সন

 

ফরিদপুরে একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের বিরোধ বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। এটি আসলে প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির বিরোধ, না আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ- এই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, প্রশাসনিক বিরোধের আড়ালে আসলে এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ; যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ নিজেই। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ।

ফরিদপুর-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র্য প্রার্থী মুজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনি দুইদুই বার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন । নিক্সন চৌধুরী স্বতন্ত্র্য নির্বাচন করলেও তিনি আওয়ামী লীগের সদস্য।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ আসলে নিক্সন চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে। তিনি চিফ হুইপের ছোট ভাই এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আত্মীয়ও বটে। এই বিবেচনা থেকেই এলাকায় নিক্সন চৌধুরীর প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।

অনেকেই মনে করছেন যে, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একটি উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সংসদ সদস্যের যে বিরোধ সেই বিরোধটি আসলে এই রাজনৈতিক বিরোধের সূত্র থেকেই তৈরি। কাজী জাফরউল্লাহ চেয়েছিলেন ওই নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে। তার মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাসঘাতকতা করে নিক্সনের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন।

তখন ওই প্রার্থীকে নির্বাচনে হারাতে জাফরউল্লাহ উদ্যোগী হয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করেন। কাজী জাফরউল্লাহর ঘনিষ্ঠজনরা মনে করেন, এই ধরণের বক্তব্য সম্পূর্ণ অমূলক। কাজী জাফরউল্লাহ এই নির্বাচন নিয়ে মোটেও নাক গলাননি; বিরোধটি সম্পূর্ণই নিক্সন ও জেলা প্রশাসকের বিরোধ। শুধু এই ঘটনা নয়, দীর্ঘদিন ধরেই কাজী জাফরউল্লাহ এবং নিক্সন চৌধুরীর বিরোধের কারণে বিভক্ত আওয়ামী লীগ এবং বিভক্ত ফরিদপুর।

সাম্প্রতিক সময়ে নিক্সন চৌধুরী কাজী জাফরউল্লাহকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ করেছেন। জাফরউল্লাহ শুধু প্রেসিডিয়াম সদস্য এই যোগ্যতায় তার সঙ্গে লড়াইয়ে পারবেন না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ইউটিউবের একটি ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, নিক্সন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনি তাকে মন্ত্রী করেন।

মন্ত্রী হলে তার সঙ্গে খেলাটা জমে। অর্থাৎ তিনি একজন শক্ত প্রতিদ্বন্ধী চান। জাফরুল্লাহ মন্ত্রী হলে প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়বে এবং তার সঙ্গে লড়াইটা অনেক ভালো হবে বলেই- তিনি মন্তব্য করেছেন। তার এই মন্তব্য নিয়ে ফরিদপুর নয়, সারা দেশেই তোলপাড় চলছে। যদিও আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ স্থানীয় নেতার সঙ্গেই নিক্সনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

কিন্তু কাজী জাফরউল্লাহর ব্যাপারে নিক্সন চৌধুরী প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। অন্য দিকে কাজী জাফরউল্লাহও এলাকায় নিক্সনের প্রভাব কমানোর জন্য বিভিন্নভাবে সংগঠন গুছানোর চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হননি। কাজী জাফরউল্লাহ নিক্সন চৌধুরীর বিরোধ যদি প্রশাসনের কারণে আরও ঘনীভূত হয় এবং বিস্তৃত হয়, তবে সেটি দুঃখজনক বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসন কেন কারও ক্রীড়ানক হয়ে কাজ করবে- সেই প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। অনেকেই মনে করছেন, যেভাবে প্রশাসন এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং যেভাবে প্রশাসন ব্যবহৃত হয়েছে; তা একটি নিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ঠ প্রশাসনের কাজ নয়।

এখানে যদি প্রশাসন নির্মোহভাবে কাজ করত; তাহলে এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও অনেকে মনে করেন। তবে যতই সময় যাচ্ছে, ততই এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এটি আসলে প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্ধ নয়; বরং এটি আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ। যে দ্বন্ধে একটি পক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছেন।

আর এখানেই প্রশাসনের সাবেক বর্তমান কর্মকর্তারা বলছেন যে, ‘রাজনৈতিক বিভাজন বা রাজনৈতিক দ্বন্ধে প্রশাসনের কারও পক্ষ নেওয়া ঠিক নয়। এই ধরণের পক্ষপাত সামগ্রিকভাবে সারা দেশে প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে’। সেইসাথে ফরিদপুরের এই ঘটনা সকলের জন্যই একটি শিক্ষা বলে মনে করছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

About mk tr

Check Also

মহাসচিব নিয়ে চমক দেবে তারেক?

  এখন এটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে যে বিএনপির মহাসচিব পরিবর্তন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *