Breaking News
Home / রাজনীতি / আবার শুরু হচ্ছে হেফাজতের বিরুদ্ধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

আবার শুরু হচ্ছে হেফাজতের বিরুদ্ধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম

 

হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল তা নাকচ করে দিয়েছে সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক মহল। তারা জানিয়েছে যে, হেফাজতের সাথে কোন ধরনের সমঝোতার প্রশ্নই আসে না। বরং সরকার যারা অপরাধ করবে, অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করবে।

সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন যে, হেফাজত হিসেবে সরকার কাউকে দেখছেন না, তারা দেখছেন অন্যায়কারী এবং অপরাধী হিসেবে। আর এই কারণে যারা অপরাধী বা অন্যায়কারী তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এই সমস্ত মামলাগুলো এখন চূড়ান্ত তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে এবং এই মামলাগুলোকে সচল এবং সক্রিয় করার ব্যাপারে এখনও সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো যে, ২০১৩ সালের মামলায় যারা জড়িত ছিল তাদের মধ্যে যারা এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি তাদেরকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং এই বিবেচনায় জুনায়েদ বাবুনগরীসহ আরো যারা বাইরে আছেন যারা ২০১৩ সালের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন হেফাজতের নেতাদের ব্যাপারে তদন্ত করতে গিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি এবং অনিয়মের খবর পাচ্ছে। হেফাজতের প্রায় সব নেতাই কোটিপতি এবং এরা মাদ্রাসা তহবিল তছরুপ করেই ধনবান হয়েছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা মোটামুটি নিশ্চিত হচ্ছে। এই তদন্ত কাজ শেষ হলে হেফাজতের বর্তমান কমিটির অন্তত ১ ডজন নেতা দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে পড়বেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, হেফাজতের বর্তমানে বিতর্কিত আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য তাদের কাছে রয়েছে, তারা এই তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করছে। ইতিমধ্যে জুনায়েদ বাবুনগরীর ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের বাইরে তারা কোনো অর্থ রেখেছেন কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে।

আর এই অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। হেফাজতের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে তাদের সাবেক আমির আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে মামলা পিবিআই তদন্ত করছে এবং এ মামলায় অভিযুক্তদের খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এই মামলার চার্জশিট দেয়া হলে জুনায়েদ বাবুনগরীসহ বর্তমান কমিটির অন্তত তিনজন সদস্য আইনের আওতায় আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, বর্তমানে হেফাজতের বিরুদ্ধে গত মার্চে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের অভিযোগের মামলারও তদন্ত চলছে। এই অভিযোগে যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে এবং এই তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এই যাচাই-বাছাই শেষে এ ব্যাপারেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বলেছেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে এবং হেফাজতের ভিতরে যারাই অন্যায়কারী তাদেরকে কোন রকম ছাড় না দেওয়ার নীতি সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।

আর এই ধারায় হেফাজতের বর্তমান কমিটির একাধিক নেতা যে খুব শীঘ্রই ফেঁসে যাবেন তা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে নতুন কমিটির মাধ্যমে হেফাজত সরকারের সাথে যে নতুন করে আপস সমঝোতা করতে বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে তা নাকচ করে দিয়ে সরকার বলছে হেফাজতের সঙ্গে কোনো রকম আপস সমঝোতার কোনো প্রশ্নই আসে না।

About mk tr

Check Also

সিনেমাটির নাম হতে পারে এরশাদের রত্নভাণ্ডার

  সিনেমাটির নাম হতে পারে এরশাদের রত্নভাণ্ডার। এই চলচ্চিত্রে তিন চরিত্র। এরিক এরশাদ, বিদিশা এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *