Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / পরীমনি বনাম রাহেলা: আমরা কার পক্ষে?

পরীমনি বনাম রাহেলা: আমরা কার পক্ষে?

 

গত ক`দিন ধরে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীমনির সয়লাব। পরীমনিকে নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা রকম কথাবার্তা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর এ সমস্ত কথাবার্তা অনেকগুলি সীমা লঙ্ঘন করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন একটি আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে যেখানে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা দেখার জন্য কেউ নেই।

অথচ দেশে একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে। পরীমনিকে নিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো কম যায়না। ক’রোনা আ’ক্রান্ত লকডাউনের এই দেশে প্রতিদিন পরীমনিকে নিয়ে নানারকম প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। পরীমনি কবে বোর্ড ক্লাবে গেছেন, কবে অল কমিউনিটি ক্লাবে গিয়ে ভাঙচুর করেছেন, তার সিসিটিভি ফুটেজ, তার বাসায় কতগুলো ম”দ আছে ইত্যাদি নানা প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে গণমাধ্যমের পাতা জুড়ে, টেলিভিশনের পর্দায়।

আর এই সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের যেন আর কোন ইস্যু নেই, একমাত্র পরীমনি ইস্যু। এই পরীমনির ভিড়ে একটি ছোট্ট খবর দেশের একটি প্রধান জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম করোনা গৃহকর্মীর কষ্টের কাল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন ফুলবাড়িয়া থাকেন রাহেলা বেগম (ছদ্মনাম)। তার ২ মেয়ে, ১ ছেলে। স্বামীর সুনির্দিষ্ট কোন পেশা নেই।

দেশে গত বছর মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আগে দুটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন রাহেলা। সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে দুটি বাড়ির কাজ হারান। তিনি উপায় গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুরে। গত নভেম্বরে আবার ঢাকায় ফেরেন। এরপর দুটি কাজ পেলেও করোনা বাড়তে থাকায় আবার তা হারিয়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে কথা হয় রাহেলার সঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, জীবন যেভাবে চলতেছে তা বলার মত নয়।

স্বামী ঠিকমতো টাকা পয়সা দেয় না। এখন মেয়ে দুটো কাজ করতেছে টুকটাক। করোনা যে কবে যাবে সেই ভাবনা করি। করোনাকালে রাহেলার মত অসংখ্য গৃহকর্মী নারীকে বেকার করেছে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে করানোর সময় যেসব পেশার মানুষ সবচেয়ে বেশি কাজ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে গৃহকর্মীরা অন্যতম। অন্য পেশাজীবীদের মধ্যে শুধু রিকশাচালকদের বেকারত্বের হার গৃহকর্মীদের তুলনায় বেশি।

এদিকে গৃহকর্মীদের ওপর নিপীড়নও কমেনি। করোনাকালে গৃহকর্মীদের কাজ হারানোর চিত্র উঠে এসেছে বেসরকারি সংগঠন পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ গভারমেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর যৌথ জরিপে। গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত তিন দফায় করোনাকালে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উপর জরিপ সংস্থা দুটি।

গবেষণার প্রথম দফায় দেখা যায় এবং অন্যান্য শহরে ৫৭ শতাংশের বেশি নারী গৃহকর্মী বেকার হয়েছেন। কাজ হারানো এসব নারীর মধ্যে ৫ শতাংশ বিকল্প পেশায় যুক্ত হতে পেরেছেন। রাহেলাদের মত এরকম যারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন, যারা কর্মহীন তাদের কথা বলার জন্য গণমাধ্যম নেই, সংসদ নেই। তাদের কথা শোনারও যেন কেউ নেই।

আর অন্যদিকে পরীমনির মত যারা সেলিব্রেটি, যারা রাত-দুপুরে বারে যান, বার বন্ধ থাকার জন্য হইচই করেন, যারা কোটি টাকার গাড়িতে ঘুরেন, যাদের বিলাসী জীবনযাপনের কথা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তারাই যেন গণমাধ্যম, সংসদ এবং জাতীয় আলোচনার সবটুকু আলো দখল করে নিয়েছেন। বাংলাদেশ একটি কথা প্রচলিত ছিল যে, একজন ভাল ডাক্তার দেখাতেও তদবির লাগে। এখন মনে হচ্ছে যে, গরিব মানুষের কণ্ঠ, গরিব মানুষের কথা গণমাধ্যম বা সংসদে যেতে গেলেও তদবির লাগবে। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা গণমাধ্যমে, সংসদে এবং আমাদের জাতীয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে কার কথা বলব। পরীমনিদের কথা বলব নাকি রাহেলাদের কথা বলব।

About mk tr

Check Also

কি হয়েছিলো কনস্টেবল কাইয়ুমের সাথে, জানুন বিস্তারিত

  রাঙামাটি শহরে এক পুলিশ কনস্টেবল নিজের অ”স্ত্রের গু’লিতে ‘আ”ত্মহ”ত্যা’ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। বৃহস্পিতিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *