Breaking News
Home / রাজনীতি / সিনেমাটির নাম হতে পারে এরশাদের রত্নভাণ্ডার

সিনেমাটির নাম হতে পারে এরশাদের রত্নভাণ্ডার

 

সিনেমাটির নাম হতে পারে এরশাদের রত্নভাণ্ডার। এই চলচ্চিত্রে তিন চরিত্র। এরিক এরশাদ, বিদিশা এবং রওশন এরশাদ। তিনজন এক বিন্দুতে মিলিত হলেই এরশাদের রত্নভাণ্ডার দখল হয়ে যাবে তাদের। কিন্তু বাধ সাধছেন জি এম কাদের। এই চলচ্চিত্রে জি এম কাদের যেন এখন আপাতত ভিলেন।

কিন্তু তিনি এরশাদের নির্বাচিত উত্তরাধিকার। আর এই চলচ্চিত্র এখন সেলুলয়েডে নয় বাস্তবে জমে উঠেছে। জাতীয় পার্টির এখন ভাঙা-গড়ার খেলা চলছে। এই ভাঙা-গড়ার খেলার ভারসাম্য হিসেবে আছেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার হবেন তার সন্তান এবং স্ত্রী।

বিদিশাকে এরশাদ তালাক দিয়েছিলেন কাজেই তিনি আর এরশাদের উত্তরাধিকারের হকদার নন। এখন এরশাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার দুইজন। এরিক এরশাদ ও রওশন এরশাদ। এরিক এরশাদ বিদিশা এবং এরশাদের পুত্র। আর রওশন এরশাদ এরশাদের বৈধ স্ত্রী। এই প্রেক্ষিতে এরশাদের যে সমস্ত সম্পদ রয়েছে সে সমস্ত সম্পদগুলো পুরোপুরিভাবে এরিক এরশাদ এবং রওশন এরশাদের কাছে চলে যেতে পারে যদি তারা এক হোন।

কিন্তু এরশাদ তার মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি একটি ট্রাস্টকে দিয়ে গেছেন এবং সেই ট্রাস্ট নিয়েই এখন বিপত্তিটা জন্মেছে। শুধু ট্রাস্ট এর কাছে দেয়া সম্পত্তি নয় এরশাদের নামে বেনামে বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। সেই সম্পদগুলো সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন বিদিশা। আর তাই এই পুরো নাটকের জন্ম দিয়েছেন বিদিশা।

বিদিশা জানেন যে ২১ বছর বয়সী এরিককে যদি সামনে নিয়ে আসা যায় তাহলে পরেই এরশাদের রত্নভান্ডার দখল করা খুব সহজ হবে। আর এ কারণেই গত কিছুদিন ধরে জাতীয় পার্টি টালমাটাল অবস্থায় চলে গেছে। বিদিশা এই রত্নভাণ্ডার আয়ত্ত করতে রওশন এরশাদের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং রওশন এবং বিদিশার ঐক্যের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই খবরের পরই জাতীয় পার্টির নেতারা নড়েচড়ে বসেছেন। তারা বিদিশার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

কিন্তু বিদিশাও কম পাকা খেলোয়াড় নন। তিনি এরিক এরশাদকে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্পকার্ড হিসেবে। এরিক এরশাদ গতকাল জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন। প্রশ্ন উঠতেই পারে জাতীয় পার্টির কমিটির দেওয়ার এরকি কে? আর এই কমিটিতে তিনি রওশন এরশাদকে দিয়েছেন। রাতেই রওশন এরশাদের সঙ্গে জাপার নেতারা যোগাযোগ করেন তার সঙ্গে দেন দরবার করা হয় এবং রাতেই জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয় যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হওয়ার ব্যাপারে রওশন এরশাদ আগ্রহী নয়।

ফলে এরশাদের রত্নভান্ডার কার ভাগে যাবে সেটি পেন্ডুলামের মত ঝুলে আছে। জাতীয় পার্টির নেতা হিসেবে জিএম কাদেরকে মনোনিত করে গিয়েছিলেন এরশাদ এমনটি জাতীয় পার্টির অনেক নেতা মনে করেন এবং এরশাদের মৃত্যুর পর জি এম কাদের জাতীয় পার্টির নেতা হিসেবে দল পরিচালনা করছিলেন। আর সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ছিলেন রওশন এরশাদ। দুইজনের মধ্যে একটা সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু এই পুরো সমঝোতার ক্ষেত্রে বাদ সাধছে এরশাদের বিপুল সম্পদ।

বিদিশাই একমাত্র জানের যে এরশাদের কোথায় কি সম্পদ রয়েছে। কিন্তু এজন্য তার দরকার বৈধ কর্তৃত্ব। আর বৈধ কর্তৃত্ব পাওয়ার জন্য তাকে দরকার রওশনের। আর জাতীয় পার্টি জানে যে রওশন এরশাদ যদি জি এম কাদেরের পক্ষে থাকে বা মূল জাতীয় পার্টির পক্ষে থাকে তাহলে জাতীয় পার্টির নেতাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এই রত্নভাণ্ডার। শেষ পর্যন্ত এরশাদের রত্নভাণ্ডার কার কাছে যাবে এবং কে জয়ী হবে সেটি সিনেমার শেষ অঙ্কে বোঝা যাবে।

About mk tr

Check Also

‘মৃত মানুষকে আসামি করা গেলে জিয়াকে আসামি করতাম’

  প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে ‘সামরিক ক্যু’র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *